প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে এক চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ কলম্বিয়া। দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ও প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ২০০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি নিশ্চিত করা হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে কলম্বিয়ার ইতিহাসে এটিকে সবচেয়ে মারাত্মক ও ধ্বংসাত্মক ভূমিকম্প হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
স্থানীয় সময় গত ১০ আগস্ট সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে এই ভয়াবহ ভূকম্পনটি আঘাত হানে। এতে দেশটির ক্যালি, পেরেইরা, কুইবদো ও মানিজালেস শহর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবল ঝাঁকুনিতে মুহূর্তের মধ্যে প্রায় ১,৬০০টি আবাসিক ভবন, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য স্থাপনা ধসে পড়েছে অথবা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ক্যালির একটি গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালের শিশু ও নবজাতক বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মর্মান্তিক খবরও পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও বেশি শোচনীয় করে তুলেছে।
এই আকস্মিক ও প্রলয়ঙ্করী বিপর্যয়ে ৮৮০ জনেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে কিংবা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এখনও নিখোঁজ রয়েছেন তিন হাজারের বেশি মানুষ। তাদের দ্রুত খুঁজে বের করতে স্বজন ও উদ্ধারকর্মীরা তীব্র উৎকণ্ঠার মধ্য দিয়ে সময় পার করছেন।
এমন ভয়াবহ জাতীয় সংকট ও দুর্যোগ মোকাবিলায় কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা এবং জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা করেছেন। দুর্গত অঞ্চলগুলোতে দ্রুত ত্রাণ পৌঁছে দিতে এবং উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করতে কলম্বিয়ার সামরিক বাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের বিশেষ দলগুলো দিনরাত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে বহু এলাকা বিদ্যুৎহীন ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় এবং কংক্রিটের নিচে আরও অনেক মানুষ আটকে থাকায় মৃতের সংখ্যা সামনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থাও দেশটির এই সংকটময় মুহূর্তে পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।