আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে সংসদ ভবনে শুরু হয়েছে শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ। আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনটি একদম নিখুঁত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সম্প্রতি জাতীয় সংসদের কেবিনেট কক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।
উক্ত সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনপ্রণেতারা অংশ নেন। এদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম, বিরোধী দলের চীফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম এবং বেশ কয়েকজন হুইপ—যেমন আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ, রকিবুল ইসলাম বকুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মো. আখতারুজ্জামান মিয়া এবং এ. বি. এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ভারপ্রাপ্ত স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জানান, রাষ্ট্র কাঠামোর প্রতিটি স্তর থেকে ফ্যাসিবাদী প্রভাব দূর করা এখন সময়ের দাবি। একটি বৈষম্যহীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘ যাত্রায় এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ঐতিহাসিক একটি মুহূর্ত হিসেবে কাজ করবে।
বৈঠকে মূলত ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া নির্বিঘ্ন করতে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়। এর মধ্যে সংসদের মূল অধিবেশন কক্ষের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, ভোট আয়োজনের সঙ্গে জড়িত যাবতীয় লজিস্টিক বা প্রশাসনিক সহায়তা প্রস্তুত রাখা এবং নির্ধারিত দিনে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করার বিষয়টি অগ্রাধিকার পেয়েছে। সার্বিক প্রস্তুতির রূপরেখা চূড়ান্ত করতে সভার কার্যবিবরণীগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হয়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২০ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার সংসদ ভবনের নির্দিষ্ট কক্ষে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইনের ৩ ধারা অনুযায়ী পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনা করার কথা রয়েছে প্রধান নির্বাচন কমিশনের।
উচ্চপর্যায়ের এই প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মোঃ গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া, নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদসহ সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাবরা।