গতকাল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় ছাত্রশক্তি-র উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রতিরোধ ও ভবিষ্যৎ পথরেখা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়বেন এটি অনেকের প্রত্যাশার মধ্যে থাকলেও, ক্ষমতার কাঠামোর পরিবর্তন বা তিনি যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাবেন—এমনটি অনেকের প্রত্যাশায় ছিল না। বরং আওয়ামী লীগকে বিরোধী দলে রেখে পরবর্তীতে তাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনার একটি পরিকল্পনা ছিল।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, এই অভ্যুত্থানে আমরা একটি অসমাপ্ত কাজ রেখে এসেছি। এজন্য কেউ আমাদের দায়ী করতে পারেন, কিন্তু বাস্তবধর্মী সত্য হলো সেসময় আমরা অন্য কোনো মহলের পর্যাপ্ত সমর্থন পাইনি। বর্তমান সময়ে যারা এই গণঅভ্যুত্থানের একক কর্তৃত্ব দাবি করছেন, তারা অভ্যুত্থানের সময় সবার আগে ক্যান্টনমেন্ট-এ চলে গিয়েছিলেন এবং সেখান থেকেই ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি করেছিলেন। এর ফলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তারা সেই সময়ে একবারও ক্যান্টনমেন্টে যাননি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত সেই সময়ের ভূমিকা সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করা।
তিনি আরও বলেন, অভ্যুত্থানের এত দিন পরও আমাদের সংস্কার ও বিচারের দাবিতে রাস্তায় কথা বলতে হচ্ছে। জুলাই সনদ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করা হলে ভবিষ্যতে যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাদের পরিণতি স্বৈরতান্ত্রিক হওয়া অনিবার্য। রাষ্ট্রপতির পদ বা ক্ষমতা কার হাতে ন্যস্ত হবে—সে বিষয়ে আলোচনার কথা থাকলেও সরকার এখন তার সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে হাঁটছে। দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানেই পুরোদমে দলীয়করণ চলছে এবং যোগ্যতার (মেরিট) ভিত্তিতে কোথাও কোনো নিয়োগ হচ্ছে না।
সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের প্রতিরোধ ও লড়াইয়ের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছি। মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে সাধারণ মানুষ এখন সরকারের বিরুদ্ধে কথা বলতে শুরু করেছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রকৃত বিপ্লবী আকাঙ্ক্ষা এবং রাজনৈতিক চেতনা বাস্তবে রূপ দিতে দেশের তরুণ সমাজকেই সবার আগে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে বলে আহ্বান জানান তিনি।