ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ —
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সর্বোচ্চ আসন নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এটি প্রায় নিশ্চিত। তবে তার মন্ত্রিসভায় তরুণ নাকি অভিজ্ঞরা অগ্রাধিকার পাবেন—তা নিয়ে দলীয় অভ্যন্তরে চলছে জোর আলোচনা।
📌 প্রবীণ-নবীনের সমন্বয়ের ইঙ্গিত
দলের স্থায়ী কমিটি ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন মন্ত্রিসভা হবে অভিজ্ঞতা ও নবীন নেতৃত্বের সমন্বয়ে। ২০০১–২০০৬ মেয়াদের বিএনপি সরকারের অভিজ্ঞ মন্ত্রীদের পাশাপাশি প্রথমবার নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরও সুযোগ দেওয়া হতে পারে। ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।
মন্ত্রিসভার আকার ও দপ্তর বণ্টন নিয়ে আজ রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
📌 জোট-শরিকদের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে আলোচনা
২০৯ আসনে জয়ের পর যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের সরকারে রাখার প্রশ্নেও আলোচনা চলছে। তবে জাতীয় সরকার গঠনের ক্ষেত্রে সব শরিক নাকি কেবল নির্বাচনী জোটের অংশীদাররা স্থান পাবেন—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।
📌 সিনিয়রদের মধ্যে আলোচনায় যারা
দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আবদুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনর নাম আলোচনায় রয়েছে।
টেকনোক্র্যাট কোটায় নজরুল ইসলাম খান ও সেলিমা রহমানকে অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনাও রয়েছে। ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদও আলোচনায়।
📌 নবীন ও টেকনোক্র্যাট মুখ
নবীনদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান আসাদ ও ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ কয়েকজন প্রথমবার নির্বাচিত নেতা মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।
টেকনোক্র্যাট কোটায় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল এবং মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ আলমগীর পাভেলর নাম শোনা যাচ্ছে।
📌 শরিক দলগুলোর সম্ভাব্য অংশগ্রহণ
যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের মধ্যে জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরর অন্তর্ভুক্তির সম্ভাবনা বেশি। এছাড়া আন্দালিব রহমান পার্থ, ববি হাজ্জাজ এবং ড. রেজা কিবরিয়ার নামও আলোচনায় রয়েছে।
📌 বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের মন্ত্রিসভা হবে ভারসাম্যপূর্ণ ও বার্তাবাহী। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনিক সংস্কার—এই তিন অগ্রাধিকার সামনে রেখে দক্ষ, পরিচ্ছন্ন ও জনমুখী ভাবমূর্তির ব্যক্তিদের গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। শুরুতেই একটি শক্ত ও কার্যকর বার্তা দেওয়াই হবে নতুন সরকারের প্রথম লক্ষ্য।