প্রকাশ , ০১ এপ্রিল ২০২৬
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদেশে পাচার হওয়া প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফেরত আনা হবে এবং এই অর্থ দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা) অবৈধভাবে প্রেরণ হয়েছে। এই অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য হিসেবে প্রাথমিকভাবে ১০টি দেশ চিহ্নিত করা হয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি প্রক্রিয়াধীন।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশ সিআইডি, এনবিআর-এর সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, আদালতের মাধ্যমে দেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং বিদেশে ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ হাজার ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। মোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৫টির চার্জশিট দাখিল হয়েছে এবং ছয়টির রায় প্রদান করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার বিদেশে পাচারকৃত সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমন করছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির বিষয়টি অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।