জুলাই বিপ্লব পরবর্তী ছাত্রজনতার অন্যতম প্রাণের দাবি ছিল ফ্যাসিবাদী আইকনদের নামে প্রতিষ্ঠিত স্থাপনা ও অবকাঠামোর নাম পরিবর্তন। যৌক্তিক এই দাবির প্রেক্ষিতে সারাদেশে ইতিমধ্যে প্রায় ৮ শতাধিক স্থাপনার নাম পরিবর্তিত হয়েছে। সরকারি স্থাপনার পাশাপাশি ১৩টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ফ্যাসিবাদী আইকন শেখ মুজিব ও ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের নামে হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো, জুলাই বিপ্লবের সূতিকাগার যে প্রতিষ্ঠান সেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই ফ্যাসিবাদী আইকনদের নামে থাকা হল ও স্থাপনাগুলোর নাম কোন এক অদৃশ্য কারণে এখনও পরিবর্তিত হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবী এবং গণস্বাক্ষরের প্রেক্ষিতে সর্বসম্মতিক্রমে ফ্যাসিবাদী আইকনদের নামে পাঁচটি স্থাপনার নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পেশ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট টিম উক্ত প্রস্তাবে সম্মতি দেন এবং প্রক্রিয়া অনুযায়ী সিন্ডিকেটে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি অনুমোদন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য সিনেটে প্রেরণ করা হয়েছিলো।
কিন্তু আজ জুলাই বিপ্লব পরবর্তী দুই বছর পর অনুষ্ঠিত প্রথম সিনেট অধিবেশনে প্রশাসন শিক্ষার্থীদের এই ন্যায্য দাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে এবং কৃত্রিম আমলাতান্ত্রিক জটিলতার দেখিয়ে ফের বিষয়টি সিন্ডিকেটে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়।
এই সিদ্ধান্ত শুধু অযৌক্তিকই নয়, শিক্ষার্থীদের ম্যান্ডেট ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে তুচ্ছ করা হয়েছে। শেখ মুজিবের নামে হল বহাল থাকায় সংশ্লিষ্ট হলের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিয়ত যে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং, হেনস্তা ও ভিকটিমাইজেশনের শিকার হচ্ছে তা তুলে ধরার পরেও বাস্তবতাকে অবজ্ঞা করা হয়েছে। এমনকি মহান বিজয় দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে যাওয়ার সময়ও হলের ব্যানার ছিনিয়ে নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে শুধুমাত্র ফ্যাসিবাদী আইকনের নাম হলের নাম বহাল থাকায়।
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে ফ্যাসিবাদী আইকনদের প্রতি প্রশাসনের এই সুপ্ত দরদ জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের চেতনার সাথে সুস্পষ্ট প্রতারণা।
এই অন্যায্য, অযৌক্তিক ও হঠকারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর নির্বাচিত শিক্ষার্থী প্রতিনিধি হিসেবে আমরা আজকের সিনেট অধিবেশন থেকে ওয়াক আউট করেছি।
আমাদের এই ওয়াক আউট কোনো ব্যক্তিগত প্রতিবাদ নয়। বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি, জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা এবং ফ্যাসিবাদমুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবির প্রতি আমাদের নৈতিক অবস্থানের প্রকাশ।