বিচ্ছিন্ন মানব অঙ্গ পুনরায় গজানো (Regeneration) এখন আর কেবল কল্পবিজ্ঞান নয়, বরং গবেষণাগারে প্রমাণিত একটি বাস্তব সম্ভাবনা। মেক্সিকান স্যালাম্যান্ডার, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুরের উপর গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা একগুচ্ছ সাধারণ জিন আবিষ্কার করেছেন।
অ্যাক্সোলটল, জেব্রাফিশ এবং ইঁদুরের ক্ষতস্থানে SP6 এবং SP8 নামের বিশেষ কিছু জিন সক্রিয় হতে দেখা গেছে। এই জিনগুলোই মূলত কোষগুলোকে নতুন করে হাড়, পেশি ও স্নায়ু তৈরির নির্দেশনা দেয়।
বিজ্ঞানীরা CRISPR প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইঁদুর থেকে এই জিনগুলো সরিয়ে দিলে তাদের অঙ্গ পুনর্জন্মের ক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায়। আবার, জেব্রাফিশের বায়োলজি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জিন থেরাপির মাধ্যমে ইঁদুরের কাটা অঙ্গের হাড়ের বৃদ্ধি আংশিকভাবে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
যদিও মানুষ বা স্তন্যপায়ী প্রাণীর অঙ্গ গজানোর ক্ষমতা নেই, কিন্তু এই গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে, আমাদের শরীরেও এই পুনর্গঠন ক্ষমতা সুপ্ত বা ‘dormant’ অবস্থায় আছে। বিজ্ঞানীরা এমন চিকিৎসা পদ্ধতি তৈরির চেষ্টা করছেন যা মানুষের শরীরকে নতুন অঙ্গ তৈরির সংকেত দেবে, ক্ষতচিহ্ন বা দাগ (scar) তৈরি করার বদলে।
বিজ্ঞানীরা এখন এই সুপ্ত জিনগুলোকে সক্রিয় করার উপায় খুঁজছেন। যদিও মানুষের হাত-পা পুরোপুরি গজাতে এখনো দীর্ঘ সময় লাগতে পারে, তবে এই গবেষণা অঙ্গ প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে।