ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়া-র সাম্প্রতিক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, মস্কোর এই আক্রমণ মূলত “সন্ত্রাসের নীতি” এবং চরম বর্বরতা। তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান যে, রাশিয়ার এই আগ্রাসনের জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে।
ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যের পরপরই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি একটি পরোক্ষ ও কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে পুতিন মন্তব্য করেন, অনেকেই এখনও পুরনো দিনের মতো নেপোলিয়নের যুগে ফিরে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তবে তাদের এটা ভালো করে মনে রাখা উচিত যে, নেপোলিয়নের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল।
দুই নেতার এই শব্দযুদ্ধের রেশ কাটতে না কাটতেই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের একজন মুখপাত্র সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ তার উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মূলত ইউক্রেনের কিয়েভ প্রশাসনকে রুশ বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী হামলা চালানোরই নির্দেশ দিচ্ছেন। রাশিয়ার দাবি, পশ্চিমা দেশগুলো কেবল অস্ত্র দিয়েই সাহায্য করছে না, বরং এ ধরনের উসকানিমূলক কথার মাধ্যমে পরোক্ষভাবে সন্ত্রাসবাদে মদদ দিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সাথে সাথে ফ্রান্স ও রাশিয়ার এই মুখোমুখি অবস্থান বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন কোনো বড় সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।