ঢাকা, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, সাম্প্রতিক চাঁদাবাজি ও দখলবাজি নিয়ে দলের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ এনসিপির সর্বোচ্চ পরিষদ রাজনৈতিক পর্ষদের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘প্রাইমারি নিয়োগে প্রায় আড়াই হাজার জনকে চাকরি প্রার্থীকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং যাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই কোন ধরনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা সন্ত্রাসী সংগঠন বা রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম এ ধরনের কোন সুস্পষ্ট তথ্য প্রমাণ নেই। এমনকি যারা আমাদের আন্দোলনের সহযোদ্ধা ছিলেন, এরকম অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই চাকরি প্রার্থীদের পাশে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি আছে। যদি একজন চাকরি প্রার্থীকে অন্যায্যভাবে এই চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়, আমরা তার জন্য লড়বো।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মিরপুরের রাড্ডা সেন্টারে এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির স্টুডিও ভাঙচুরের এই দুটি ঘটনা হয়তো মিডিয়া বা নানা কারণে রাজধানীতে হওয়ার কারণে আমাদের সামনে এসেছে। কিন্তু সারাদেশের পরিস্থিতি এইটা। বিএনপি সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পরে আইনশৃঙ্খলার পরিবেশের আরো বেশি অবনতি হয়েছে। তারা নিজেদের দলীয় নেতাকর্মীকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না। এজন্য বর্তমান সরকার বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তারা দায়ী। এই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্বে রেখে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করা সম্ভব নয়। এনসিপির নেতাকর্মীদের আহ্বান, জনগণকে নিয়ে চাঁদাবাজি দখলবাজির বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের ভাষণ নিয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ ভাষণে জনগণের প্রত্যাশা উঠে আসেনি। সেখানে তিনি তার দলীয় যে ইশতেহার যে এজেন্ডা ফ্যামিলি কার্ড খাল খনন এই ধরনের অনেক কিছু বলেছেন যেটা অলরেডি এই প্রকল্পগুলো দেশে ব্যর্থ প্রমাণিত হয়েছে, ফ্যামিলি কার্ডের কথা তুলে ধরেছেন। মধ্যপ্রাচ্য সংকট, হরমুজ প্রণালী নিরাপত্তা, আমরা যেন জ্বালানি পাই সেটা তিনি তুলে ধরতে পারেননি। সীমান্ত হত্যা, পুশ ইন, ভারতে গণহত্যাকারী হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, সেখানে দলীয় কার্যক্রম চালাচ্ছে, সেখানে প্রেস ব্রিফিং করছে এবং দিল্লি সরকার এটা হতে দিচ্ছে। দিল্লির এই যে আগ্রাসী রূপ, এটা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে পারতেন।’
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ার কথা। সে নির্বাচন দফায় দফায় পিছানো হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন দলীয়করণ করে নির্বাচনটাকে যাতে ফেয়ার না হয়, সরকার সে ধরনের বন্দোবস্তের চেষ্টা করছে। আমরা এটা স্পষ্টভাবে বলব যদি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নূন্যতম এখানে আশঙ্কা তৈরি হয় যে এই নির্বাচন সুষ্ঠ হবে না নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করা হবে তাহলে কিন্তু এটা আমরা জাতীয় নির্বাচনের মত দেশের স্থিতিশীলতার কথা ভেবে আমরা বসে থাকবো না। আমরা এটা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে আমরা এটা প্রতিরোধ করব।‘
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখছি যে সংবিধান সংশোধন কমিটি নামে একটি কমিটি করা হয়েছে। সংশোধনের নামে সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে ধুলিসাৎ করার একটা চেষ্টা হচ্ছে এই কমিটি। আমরা রাষ্ট্রের কসমেটিক্সের সার্জারি চাই না।আমরা চাই মৌলিক সংস্কার। এর আগেও ১৭ বার সংশোধন হয়েছে। কোনটাই মৌলিক কোন পরিবর্তন হয়নি। তাই আমরা বলব যে দ্রুত সময়ে এই নাটক বন্ধ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সভা আহবান করতে হবে।’