ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের কোনো অংশ দখলের অধিকার নেই।
কোপেনহেগেন / ওয়াশিংটন | ৫ জানুয়ারি ২০২৬
ভেনেজুয়েলার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর এবার ডেনমার্কের গ্রিনল্যান্ডে। তবে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন তাকে সতর্ক করে বলেছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে।
মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেছেন, “যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রিনল্যান্ড দখল করা প্রয়োজন, এমন কথা বলার কোনো অর্থ নেই। ড্যানিশ কিংডমের অন্তর্ভুক্ত কোনো ভূখণ্ড দখল করার অধিকার যুক্তরাষ্ট্রের নেই।”
এ সতর্কবার্তা আসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সহকারী স্টেফেন মিলারের স্ত্রী কেটি মিলারের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে গ্রিনল্যান্ডের একটি মানচিত্র পোস্ট করার পর। ওই মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকার রং ব্যবহার করা হয়েছে এবং লেখা ছিল, ‘শিগগিরই’।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতে, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে দেশটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্বার্থ সুরক্ষিত হবে। দ্বীপটি আর্কটিক অঞ্চলে অবস্থিত এবং সেখানে আধুনিক প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ রয়েছে।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ডেনমার্ক ন্যাটোর সদস্য এবং গ্রিনল্যান্ডও ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামোর আওতায়। যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ডেনমার্কের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গ্রিনল্যান্ডে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে।
তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে জোরালোভাবে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ মিত্র, দেশ ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়া বন্ধ করুন। গ্রিনল্যান্ডের জনগণ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা বিক্রির জন্য নয়।”
এরপর এয়ার ফোর্স ওয়ানে ট্রাম্প বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড দরকার এবং ডেনমার্ক এটি আটকাতে পারবে না।”
গ্রিনল্যান্ডে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে। ১৯৭৯ সাল থেকে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। স্থানীয় জনগণের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ব্যাপারে প্রবল বিরোধ আছে।