ত্রিপোলি | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার
রমজান উপলক্ষে উৎসব ও পারিবারিক আয়োজনে মুখর লিবিয়া। তবে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, মুদ্রার অবমূল্যায়ন ও দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে অনেক নাগরিকের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে। তেল–গ্যাসসমৃদ্ধ দেশটি ১৫ বছর ধরে পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলে বিভক্ত অবস্থায় রয়েছে।
ত্রিপোলি থেকে বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) জানায়, রমজানে সাধারণত ইফতার ও সেহরিকে কেন্দ্র করে বাজারে কেনাকাটার ধুম পড়ে। কিন্তু এ বছর সুপারমার্কেটগুলো পণ্য রেশনিং করে সীমিত পরিমাণে বিক্রি করছে।
রাজধানী ত্রিপোলি-তে অধিকাংশ এটিএমে নগদ অর্থের সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি নেই। ফলে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় অস্বস্তি বাড়ছে।
৩৭ বছর বয়সী নাগরিক ফিরাস জ্রিগ বলেন, “অর্থনীতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, মুদ্রা ব্যবসায়ীদের কারসাজির কারণে দিনারের দরপতন হয়েছে, যার প্রভাব পড়ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রান্নার তেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে, আর মাংস ও পোলট্রির দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।
সরকার নির্ধারিত মূল্য ১.৫ দিনার হলেও রাষ্ট্রীয় সরবরাহে গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কালোবাজারে তা ৭৫ দিনার বা তারও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।
২০১১ সালের আরব বসন্তের পর দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি-র পতনের পর থেকে দেশটি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে জাতিসংঘ স্বীকৃত ত্রিপোলিভিত্তিক সরকার এবং পূর্বাঞ্চলে সামরিক নেতা খলিফা হাফতার সমর্থিত প্রশাসনের মধ্যে ক্ষমতার বিভাজন বিদ্যমান।
চলতি মাসেই গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। যদিও সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা এসেছে, তবুও সহিংসতার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
গত মাসে পশ্চিমাঞ্চলীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিনারের মূল্য প্রায় ১৫ শতাংশ কমিয়েছে—এক বছরের কম সময়ে দ্বিতীয়বারের মতো। প্রধানমন্ত্রী আব্দুলহামিদ দবেইবা স্বীকার করেছেন, এই অবমূল্যায়নে নাগরিকদের ওপর চাপ বেড়েছে।
এদিকে United Nations Support Mission in Libya-এর প্রধান হান্না টেটেহ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে সতর্ক করে বলেছেন, দারিদ্র্য ও সামাজিক চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতির সঙ্গে অর্থনৈতিক সংকট যুক্ত হলে নতুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, অভিন্ন জাতীয় বাজেটের অভাব, দ্বৈত প্রশাসনিক কাঠামো এবং তেলখাতের আয় কমে যাওয়া অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলেছে। গাদ্দাফি পতনের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ত্রিপোলিতে আতশবাজি ফুটলেও অনেক লিবীয় নাগরিকের জন্য জীবন এখনো কঠিন সংগ্রামের।
ফিরাস জ্রিগের ভাষায়, “নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি হলেও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ এখনো বড় বাধা হয়ে আছে।”