নানা আয়োজন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে হারি বৈসু উদযাপন, অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় ও পর্যটকরা
খাগড়াছড়ি
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬
খাগড়াছড়িতে সোমবার থেকে ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়েছে। ভোর থেকে ঘরদোর পরিষ্কার, ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান এবং নদী-ছড়ায় প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের প্রথম দিন।
প্রতিবেদন
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর বর্ষবরণ উৎসব বৈসুর প্রথম দিনকে বলা হয় ‘হারি বৈসু’। এই দিনে ভোরে নারী, পুরুষ ও শিশুরা ঘুম থেকে উঠে ঘর পরিষ্কার করে, গোসল শেষে ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও গয়না পরিধান করে নদী, ছড়া ও খালে গিয়ে বিশেষ প্রার্থনা করেন।
বন-জঙ্গল থেকে সংগৃহীত ফুল, কলাপাতা, মোমবাতি ও আগরবাতি দিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে প্রার্থনা করা হয়। পুরোনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে স্বাগত জানানো হয়। তরুণীরা নিজেদের তৈরি রিসা বা উড়না ফুলসহ পানিতে ভাসিয়ে দেন।
শিশুরা ছড়ার পানিতে আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠে এবং একে অপরকে পানি ছিটিয়ে উৎসব উদযাপন করে। স্থানীয়দের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা পর্যটকরাও এ উৎসব উপভোগ করেন।
বৈসু উপলক্ষে বাংলাদেশ ত্রিপুরা কল্যাণ সংসদের উদ্যোগে জেলা শহরের পল্টন জয় এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুঁইয়ার সহধর্মিণী ও জেলা বিএনপির প্রধান উপদেষ্টা জাকিয়া জান্নাত বীথি।
এ সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম এন আবছার এবং ত্রিপুরা সংসদের সভাপতি কমল বিকাশ ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের অনেকেই সোমবার মাতাই পুকুরি বা দেবতা পুকুরে গিয়ে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় পূজা দেন।
অন্যদিকে মারমা ঐক্য পরিষদের উদ্যোগে খাগড়াছড়িতে সাংগ্রাই উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। পাড়া-মহল্লায় চলছে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
চাকমা সম্প্রদায়ের আজ দ্বিতীয় দিন ‘বিজু’ পালিত হচ্ছে, যেখানে ঘরে ঘরে নানা সবজি দিয়ে তৈরি বিশেষ খাবার ‘পাঁচন’ দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন করা হচ্ছে। আগামীকাল মঙ্গলবার মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।
সূত্র
- জেলা প্রশাসন, খাগড়াছড়ি
- স্থানীয় সংবাদ সূত্র