নববর্ষ ও চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর জনগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। বিজু, সাংগ্রাই, বিষু, বৈসু, চাংক্রান ও চাংলানসহ প্রতিটি উৎসব আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও গৌরবময় সহাবস্থানের প্রতিফলন। পাহাড় ও সমতলে আমাদের বহু ভাষা ও বহু সংস্কৃতির এই চর্চা অক্ষুণ্ন রেখে বঙ্গীয় সভ্যতার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে হবে। এসব উৎসবের সাফল্য ও আনন্দময় উদযাপন কামনা করছি।
পহেলা বৈশাখ বাঙালির সম্প্রীতি, সাম্য ও পুনর্মিলনের দিন। ধর্ম, বর্ণ ও পরিচয়ের বিভাজন অতিক্রম করে এই দিন আমাদের একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনের অঙ্গীকারে উজ্জীবিত করে।
নতুন বছর আমাদের কাছে কেবল উৎসবের উপলক্ষ নয়; এটি অন্যায়, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে নতুন প্রত্যয় নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান। বিগত দিনের দুঃশাসন, বঞ্চনা ও অশুভ শক্তিকে পেছনে ফেলে আমরা এগিয়ে যেতে চাই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র বিনির্মাণের পথে। পহেলা বৈশাখ আমাদের সেই সাহস, শক্তি ও প্রেরণা জোগায়।
এই নববর্ষে আমাদের অঙ্গীকার— দুর্নীতি, গুম, খুন ও সকল প্রকার অবিচারের বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান গ্রহণ; রাষ্ট্র মেরামতে সংস্কার বাস্তবায়ন, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সংগ্রামকে আরও বেগবান করা।
আসুন, নববর্ষের প্রেরণায় উদ্বুদ্ধ হয়ে আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলি একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ যেখানে প্রতিটি মানুষের অধিকার, কণ্ঠস্বর ও স্বপ্ন সমানভাবে মূল্যায়িত হবে।
শুভ নববর্ষ ১৪৩৩