জন্মসাল সংশোধনে ডিজির একক অনুমোদন বাধ্যতামূলক; ভুয়া তথ্য ঠেকাতে কড়াকড়ি
ঢাকা
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধন প্রক্রিয়ায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জন্মসালসহ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংশোধনের ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত করে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালকের হাতে দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদন
নতুন বিধান অনুযায়ী, এখন থেকে এনআইডিতে জন্মসাল সংশোধনের সব আবেদনই এনআইডি উইংয়ের ডিজি কার্যালয়ে নিষ্পত্তি হবে। আগে ১০ বছরের বেশি বয়স সংশোধনে ডিজির অনুমোদন লাগলেও কম বয়সের ক্ষেত্রে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা সংশোধন করতে পারতেন। এখন সেই ক্ষমতা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও সংরক্ষিত তথ্য-উপাত্ত সংক্রান্ত প্রবিধানমালায় সংশোধন এনে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। ফলে মাঠ পর্যায়ের ক্ষমতা কমে গিয়ে পুরো প্রক্রিয়া কেন্দ্রভিত্তিক হয়ে পড়েছে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে সহজীকরণও আনা হয়েছে। ঠিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে পিতা-মাতার এনআইডি অনুযায়ী দ্রুত স্থানান্তরের সুযোগ থাকবে। এছাড়া ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ধর্মগুরুর প্রত্যয়ন থাকলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করা হবে।
একাধিক জন্মনিবন্ধন সনদ থাকলে একটি রেখে বাকিগুলো বাতিল করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘদিনের অনিয়ম কমাতে সহায়ক হবে বলে মনে করছে ইসি।
নতুন নিয়মে এনআইডি সংশোধনের জন্য মাধ্যমিক (এসএসসি) পরীক্ষার সনদ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একাধিক সনদ থাকলে তা যাচাই-বাছাই করে সংশোধনের ভিত্তিতে এনআইডি আপডেট করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, ভুয়া তথ্য দিয়ে সংশোধনের প্রবণতা ঠেকাতেই এই কড়াকড়ি।
এ বিষয়ে এনআইডি উইংয়ের মহাপরিচালক এ এস এম হুমায়ুন কবির বলেন, মাঠ পর্যায়ে জন্মতারিখ সংশোধন নিয়ে নানা অভিযোগ ছিল। সেই সমস্যার সমাধান করতেই কেন্দ্রীয়ভাবে অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচন বিশ্লেষক ড. বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন, এতে ভুয়া সংশোধন কমলেও অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণের কারণে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিমালা একদিকে তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করবে, অন্যদিকে প্রক্রিয়া জটিল হওয়ায় নাগরিক সেবা পেতে সময় বেশি লাগতে পারে।