শরীয়তপুরে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে চাল সরানোর অভিযোগ ঘিরে রহস্য; স্থানীয়দের বাধায় একাধিকবার আটক, পরে গুদামে স্থানান্তরের দাবি
শরীয়তপুর জেলা
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬
শরীয়তপুরে সরকারি খাদ্যগুদাম থেকে প্রায় ৪০০ বস্তা চাল পরিবহনের সময় ট্রাক আটক ও পরবর্তীতে চালক-হেলপারের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে চালের গন্তব্য ও প্রক্রিয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রতিবেদন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে আংগারিয়া খাদ্যগুদাম থেকে একটি ট্রাকে করে সরকারি সিলযুক্ত প্রায় ৪০০ বস্তা চাল বের করা হয়। ট্রাকটি কোটাপাড়া এলাকায় যাওয়ার পথে পালং মডেল থানা সংলগ্ন সড়কে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে সেটি থামানো হয়।
প্রাথমিকভাবে চালক ও হেলপার দাবি করেন, চালগুলো ওজন যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হচ্ছে। তবে কাগজপত্র দেখতে চাইলে তারা ঘটনাস্থল থেকে সরে পড়ে। এরপর থেকেই তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
পরবর্তীতে খাদ্যগুদাম সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে একটি চালান ফরম দেখিয়ে জানান, এগুলো খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় নির্ধারিত ডিলারের জন্য বরাদ্দ চাল। তবে সংশ্লিষ্ট ডিলার বোরহান উদ্দিন দাবি করেন, ওই চাল তার নয় এবং তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না—যা ঘটনার রহস্য আরও ঘনীভূত করে।
ঘটনার পর স্থানীয়রা প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করলেও দীর্ঘ সময় কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ ট্রাকটি থানায় নিয়ে যায়। তবে একই কাগজপত্র দেখিয়ে চাল পুনরায় ছাড়ানোর চেষ্টা হলে আবারও স্থানীয়রা বাধা দেয়।
পালং মডেল থানার এক কর্মকর্তা জানান, খাদ্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে কাগজপত্র যাচাইয়ের পর চাল বৈধ হিসেবে দেখানো হয় এবং সেগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, দুপুরে যে ডিলার চাল অস্বীকার করেছিলেন, পরে একই চালানকে বৈধ দেখিয়ে একটি চক্র সরকারি চাল সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে।
পরবর্তীতে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের (ভারপ্রাপ্ত) কার্যালয় থেকে জানানো হয়, চালগুলো পুনরায় জব্দ করে গুদামে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় Directorate General of Food–এর স্থানীয় ব্যবস্থাপনা ও মাঠ পর্যায়ের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় প্রশাসনের অনুপস্থিতি এবং রাতে চাল স্থানান্তরের অভিযোগ পুরো ঘটনাকে আরও সন্দেহজনক করে তুলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, স্বচ্ছ তদন্ত না হলে এ ধরনের অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়তে পারে।
সূত্র
- স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী
- খাদ্যগুদাম কর্তৃপক্ষ
- জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়
- পুলিশ প্রশাসন