আজ পর্যন্ত কি কেউ কখনও শুনেছেন? বিশ্বের কোন মুসলিম খ্রিস্টানদের যীশুকে অবমাননা করেছে? কোন গালি দিয়েছে (নাউজুবিল্লাহ)। বা ব্যাঙ্গাত্বক কোন কার্টুন এঁকেছে? বা তাদের ধর্মগ্রন্থ পুড়িয়েছে?
না। কোন মুসলিমের পক্ষে কখনও এটা সম্ভব নয়। কারন মুসলমানরা তাদের ধর্ম বিশ্বাসের এক অবিচ্ছেদ্য ফরজ অংশ হিসেবেই তাদের অন্যতম নবী হযরত ঈসা (আঃ)-কে গভীরভাবে সম্মান করেন। কারন খ্রিস্টানদের যীশুই হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত ঈসা (আঃ)। ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে নাম ধরে উল্লেখ করা হয়েছে এমন নারী আছেন মাত্র একজন। তিনি হচ্ছেন হযরত মারইয়াম (আঃ)। আর তিনিই হচ্ছেন খ্রিস্টানদের ‘ঈশ্বরের মাতা’ মেরি।
অন্যদিকে ইহুদিদের ‘মোশি’ হচ্ছেন মুসলিমদের সম্মানীত নবী হযরত মুসা (আঃ)। এভাবে আব্রাহাম হচ্ছেন মুসলিমদের জাতির পিতা হযরত ইবরাহিম (আঃ)। জোসেফ হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত ইউসুফ (আঃ)। জেকব হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত ইয়াকুব (আঃ)। ডেভিড হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত দাউদ (আঃ)। আইজেক হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত ইসহাক (আঃ)। নোয়াহ হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত নুহ (আঃ)। অ্যারন হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত হারুন (আঃ)। সলেমন হচ্ছেন মুসলিমদের নবী হযরত সোলায়মান (আঃ)। মাইকেল হচ্ছেন মুসলিমদের সম্মানিত একজন ফেরেশতা হযরত মীকাঈল (আঃ)।
আল্লাহর প্রেরিত এই মহাসম্মানীত নবীদের উপর বিশ্বাস রাখা মুসলিমদের ঈমানের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তেমনিভাবে আল্লাহর ফেরেশতাদের উপর বিশ্বাস রাখাটাও ঈমানের অংশ। তাই পৃথিবীর যে কোন প্রান্তেই হোক। কোন মুসলিমের পক্ষে খ্রিস্টানদের যীশুকে এবং ইহুদিদের মোশিকে কোনভাবেই অবমাননা, কটুক্তি বা ব্যাঙ্গাত্বক কার্টুন আঁকা একেবারেই অসম্ভব।
অন্যদিকে কেউ কখনও শুনেছেন? বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন মুসলিম ছাত্র গীতা বা মহাভারত পুড়িয়েছে? ইসলাম ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ আল কোরআনে অন্যান্য সব পৌত্তলিক ধর্মের উপাস্য দেব-দেবীদের গালিগালাজ করতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাই মুসলিমদের পক্ষে আল্লাহর এই আদেশ অমান্য করে দেব-দেবীদের গালিগালাজ করাও সম্ভবপর নয়।
অথচ প্রকাশ্যে যখন পবিত্র কোরআনের অবমাননা হলো, মুসলিমদের হৃদয় ভেংগে চুরমার হয়ে যাচ্ছে! তারপরও আমরা চরম ধৈর্য্যের সাথে পরম সহনশীলতার প্রমান দিয়েই যাচ্ছি।
এখন বলুন তো। কারা সত্যিকার অর্থে অন্য ধর্মের প্রতি সহনশীল? কারা সত্যিকার অর্থে অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল? হ্যাঁ, এটাই ইসলাম। এটাই ইসলামের প্রকৃত সৌন্দর্য।