মেক্সিকো সিটি | ২ জানুয়ারি ২০২৬
মেক্সিকোর রাজধানী মেক্সিকো সিটিসহ দেশটির দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চল ৬.৫ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। তীব্র কম্পনের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হলেও প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া যায়নি।
মেক্সিকোর জাতীয় ভূকম্পন গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সার্ভে ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল প্রশান্ত মহাসাগর উপকূলবর্তী অঞ্চলের কাছাকাছি, যার ফলে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য গুয়েরেরোর সান মার্কোস শহরে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি হয়। পর্যটন নগরী আকাপুলকো থেকে উৎপত্তিস্থলটির দূরত্ব ছিল প্রায় ৯২ কিলোমিটার।
ভূমিকম্পের সময় মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম রাজধানীর ন্যাশনাল প্যালেসে একটি সংবাদ ব্রিফিংয়ে অংশ নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ভূমিকম্পের সতর্কবার্তার অ্যালার্ম বেজে উঠলে প্রেসিডেন্ট, সাংবাদিক ও উপস্থিত কর্মকর্তারা দ্রুত হলকক্ষ ত্যাগ করে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেন।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রেসিডেন্ট পুনরায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে ফিরে আসেন।
🗣️ প্রেসিডেন্টের বক্তব্য
সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম জানান, ভূমিকম্পের পরপরই তিনি গুয়েরেরো রাজ্যের গভর্নর এভেলিন সালগাদোর সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ নিয়েছেন। তিনি বলেন,
“বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনীকে ইতোমধ্যে সারা দেশে সতর্ক অবস্থায় থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত রাজধানী মেক্সিকো সিটি, গুয়েরেরো কিংবা দেশের অন্য কোনো অঞ্চলে প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
🌍 প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ
ভৌগোলিকভাবে মেক্সিকো একটি অত্যন্ত সক্রিয় টেকটোনিক প্লেট অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটি প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্পের মুখোমুখি হয়। অতীতের বহু ভূমিকম্পে দেশটিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে এবারের ঘটনায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর না পাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।