ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)-এ উপাচার্য নিয়োগের প্রতিবাদে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এ অভিযোগ করেন। তারা দাবি করেন, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপিপন্থি শিক্ষক-কর্মকর্তা এবং বহিরাগত সন্ত্রাসীরা সংঘবদ্ধ হামলা চালিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ডুয়েটে বহিরাগত কোনো শিক্ষক নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিক্ষকদের মধ্য থেকে যোগ্য ও দলীয় প্রভাবমুক্ত উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা গত তিন দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এর ধারাবাহিকতায় শনিবার (১৭ মে) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলাকালে হামলার ঘটনা ঘটে।
ছাত্রশিবিরের অভিযোগ অনুযায়ী, ডুয়েট ও মহানগর ছাত্রদল, যুবদল এবং বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় বিএনপিপন্থি শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও হামলায় অংশ নেন বলে দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া এবং আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশ গুলি ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
বিবৃতিতে ছাত্রশিবির নেতারা বলেন, ডুয়েটের এই ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান সহিংসতা ও দখলদারিত্বের রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। তারা অভিযোগ করেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে হামলা, নির্যাতন ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
এছাড়া রাষ্ট্রীয় প্রশাসন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ তুলে তারা বলেন, এর মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা চলছে।
ছাত্রশিবির নেতারা অবিলম্বে ডুয়েট ক্যাম্পাসে হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা, আহত শিক্ষার্থীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং দলীয় বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগের নীতি পরিহারের দাবি জানান।