বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কারণেই পরিবর্তন এসেছে। এজন্য বৈষম্য করা যাবে না। আর্থিক সহায়তার ক্ষেত্রে কে কোন ধর্মের বা কে কোন দলের সমর্থক, তা বিবেচনা না করে প্রকৃত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের কাছেই সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে।
৪ জুলাই, শনিবার সন্ধ্যায় বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের ঝাড়ুয়ারহাটে অনুষ্ঠিত সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমি নির্বাচনের আগে একটি ওয়াদা করেছি—আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, সরকারের যে বরাদ্দগুলো পাব এবং অন্য যেখান থেকে আনতে পারব, তার একটি পাই হারামের টাকাও আমার পেটে ঢুকবে না, ইনশাআল্লাহ। আমার সচেতন মনে এখন পর্যন্ত এমন কিছু হয়নি।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ৫৪ বছরে, কিংবা গত ১৬ বছরে যে কাজগুলো হয়নি, তা কি চার দিন বা চার মাসে করা সম্ভব? আমাকে একটু সময় দিন। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ না করে শুধু দোয়া করি। কাজ বাদ দিয়ে শুধু দোয়া করলে আল্লাহ তা কবুল করবেন না। সারা বছর শুধু দোয়া-দরুদ পড়লে আইন পরিবর্তন হয় না। ইসলাম কায়েম করতে হলে আমাদের আইন পরিবর্তন করতে হবে। আর আইন পরিবর্তন হয় সংসদে। সংসদে আমাদের শক্তি বাড়লে আমরা আইন পরিবর্তন করতে পারব।’
অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদেরও নিজ নিজ ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা এবং সৎকাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হিন্দু ধর্মেও স্বর্গের কথা বলা আছে। আপনারা ধর্মের কথা মানেন। কোনো ধর্মই খারাপ শিক্ষা দেয় না; সব ধর্মই মানুষকে ভালো কাজ করতে বলে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আগেও তিনবার নির্বাচন করেছি। তখন এমপি না হলেও এলাকায় অনেক কাজ করেছি। অনেককে চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছি, মসজিদ নির্মাণে সহযোগিতা করেছি, এতিমখানা ও ওজুখানা নির্মাণে সহায়তা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এরপর আমাকে মিথ্যা মামলায় জেলে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে ফাঁসির আদেশও হলো। সত্যি বলতে, এ নিয়ে আমার কোনো ভয় ছিল না। আমার বিশ্বাস ছিল, আওয়ামী লীগ যেভাবে ইসলামের বিরুদ্ধে চলে গেছে, তাদের হাতে যদি আমার ফাঁসি হয়, তাহলে আমি শহীদ হব। আর শহীদ হলে জান্নাত পাব, ইনশাআল্লাহ। একদিন তো সবাইকেই মরতে হবে।’
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘কিন্তু আপনাদের দোয়া এবং আল্লাহর ফয়সালায় চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পর আমি মুক্তি পেলাম, আলহামদুলিল্লাহ। এমনভাবে মুক্তি পেলাম যে, আগে তিনবার নির্বাচন করে হেরেছি, কিন্তু এবার আপনারাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন। আলহামদুলিল্লাহ। এর সমস্ত কৃতিত্ব আপনাদের। আপনারা আমাকে মহব্বত করে ভোট দিয়েছেন।’
দামোদরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান লাবলুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা কামরুজ্জামান কবির, নায়েবে আমীর শাহ মুহাম্মদ রুস্তম আলী, সেক্রেটারি মাওলানা মিনহাজুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বদরগঞ্জ উপজেলা শাখার সেক্রেটারি এম এ মতিন সরকার প্রমুখ।