ঝিনাইদহ, ৩ জানুয়ারি ২০২৬
ঝিনাইদহ জেলা কারাগারের সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানের বিরুদ্ধে সরকারি মোটরসাইকেল অবৈধভাবে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, নিলামের নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটরসাইকেলটি এক ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করা হয়েছে, যা জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৯ ডিসেম্বর জেলাধীন কারারক্ষীদের ব্যবহৃত একটি পুরাতন হিরো হোন্ডা মোটরসাইকেলের নিলামের বিজ্ঞপ্তি কারা ফটকে টাঙানো হয়। পরদিন ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয় বাসিন্দারা তুহিন হোসেন, মো. রইচ উদ্দিন ও সোহেল রানা ২৫০০ টাকা করে জামানত দিয়ে নিলামে অংশ নেন। নিলামের সময় উপস্থিত ছিলেন জেল সুপার, কেরানি, হিসাব সহকারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, নিলামের আগে সরকারি নির্ধারিত মূল্য গোপন রাখা হয়। সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে তুহিন হোসেন ৭৫০০ টাকা প্রস্তাব দিলে জেল সুপার সেই দামে বিক্রি করতে অস্বীকৃতি জানান এবং নিলাম পুনরায় ঘোষণা করা হবে বলে অংশগ্রহণকারীদের বিদায় দেন।
অদ্ভুত পরিস্থিতিতে, নিলাম স্থগিতের মাত্র দুই ঘণ্টা পরে জনৈক সোনা মিয়া নামে এক ব্যক্তি ২০ হাজার টাকায় বাইকটি কিনে নেন। স্থানীয়রা তাকে মোটরসাইকেলসহ আটক করেন। সোনা মিয়া স্বীকার করেছেন যে, তিনি পূর্বের নিলামে অংশ নেননি, তবে জেল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশ করে বাইকটি ক্রয় করেছেন। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরবর্তীতে জেল সুপার মোহাম্মদ হাবীবুর রহমান তড়িঘড়ি করে বাইকটি কারা অফিসে ফিরিয়ে নেন। তিনি সরাসরি বাইক বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং দাবি করেছেন, মোটরসাইকেলটি মেরামতের জন্য বাইরে পাঠানো হচ্ছিল।
জেলা কারা হিসাব সহকারী মীর আলামিন নিলাম ব্যতীর্কে বাইক বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করেছেন, তবে এ বিষয়ে জেল সুপারের সঙ্গে পরামর্শ করার পরামর্শ দিয়েছেন।