ঢাকা | শনিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম। প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা থেকে উঠে এসেছে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা ও সম্পদের পাশাপাশি বিস্ময়কর তথ্য।
নির্বাচনী প্রার্থীদের সম্পদ ও শিক্ষাগত তথ্য
ইশরাক হোসেন (ঢাকা-৬, বিএনপি)
বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেনের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা, নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে ১.৫ কোটি টাকা। কৃষি ও অকৃষি জমির মূল্য এক কোটি ৬২ লাখ টাকার বেশি। তিনি পেশা হিসেবে উল্লেখ করেছেন চাকরি ও ব্যবসা, তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা উল্লেখ করেননি। বছরে তার আয় ৬২ লাখ টাকা।
আব্দুল মান্নান (ঢাকা-৬, জামায়াতে ইসলামি)
তিনি কোন ঋণ, বাড়ি বা ফ্ল্যাট নেই। নগদ প্রায় ১১ লাখ টাকা এবং অস্থাবর সম্পদের মূল্য ৪৮ লাখ টাকা। পেশা শিক্ষকতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা পিএইচডি, বার্ষিক আয় সাত লাখ টাকা। ২১টি মামলা রয়েছে।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী (ঢাকা-৮, এনসিপি/জামায়াতে ইসলামি জোট)
পেশা: মার্কেটিং কনসালট্যান্ট। চাকরি থেকে আয় প্রায় ২.৫ লাখ টাকা। নগদ ২৫ লাখ, স্ত্রীর নামে ৫ লাখ। উভয়ের অলঙ্কার ২২ লাখ। ব্যাংকে তার ৮ হাজার টাকা, স্ত্রীর নামে ৬ লাখ টাকা। সম্পদ ৪০ লাখ টাকা।
সাঈদ আল নোমান (চট্টগ্রাম-১০)
বিপুল সম্পদ: তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২৪ কোটি, স্ত্রীর নামে ৩.৫ কোটি। স্থাবর সম্পদ ১০ কোটি ৮৩ লাখ। ক্রিপ্টোকারেন্সিতেও বিনিয়োগ করেছেন। পেশা ব্যবসা, শিক্ষাগত যোগ্যতা এমফিল।
হুম্মাম কাদের চৌধুরী (চট্টগ্রাম-৭, বিএনপি)
নিজের সম্পদ ৮৪ লাখ, স্ত্রীর সম্পদ ৪০.৮৬ কোটি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্বশিক্ষিত। পেশা ব্যবসা। মামলার সংখ্যা নেই।
সারজিস আলম (পঞ্চগড়-১, এনসিপি)
সম্পদ ৩৩.৭৩ লাখ, একটি তদন্তাধীন মামলা। পেশা ব্যবসা, শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স)। কোনো বাড়ি বা গাড়ি নেই।
শাহ রিয়াজুল হান্নান (গাজীপুর-৪, বিএনপি)
২০১৮ সালে নিজেকে এলএলবি পাস দাবি করেছিলেন। ২০২৬ সালের হলফনামায় উল্লেখ করেছেন নিজেকে স্বশিক্ষিত হিসেবে। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তথ্য গোপন বা ভুল দিলে দণ্ডবিধির ১৮১ ও ১৯৩ ধারা অনুযায়ী ফৌজদারি অপরাধ, প্রার্থিতা বাতিল ও জেল-জরিমানা হতে পারে।
নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য এখন যাচাই-বাছাইয়ের মধ্যে রয়েছে। কোনো প্রার্থীর তথ্যের বড় অসঙ্গতি প্রমাণিত হলে তার মনোনয়ন বাতিল হতে পারে।