ভেনেজুয়েলা | শনিবার, ৪ জানুয়ারি ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের এক সামরিক অভিযানের পর ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেশটির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ রাষ্ট্রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
ভেনেজুয়েলার সংবিধানের ২৩৩ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের অস্থায়ী বা স্থায়ী অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। শনিবার বিকেলে অর্থ ও তেলমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করা রদ্রিগেজের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তিনি জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। সেখানে তিনি দম্পতির “তাৎক্ষণিক মুক্তি” দাবি করেন এবং মার্কিন সামরিক অভিযানকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের “চরম লঙ্ঘন” হিসেবে নিন্দা জানান।
রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল ভিটিভিতে সম্প্রচারিত বক্তব্যে রদ্রিগেজ বলেন, “ভেনেজুয়েলার জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। আজ যা আমাদের সঙ্গে করা হয়েছে, তা যেকোনো দেশের সঙ্গেও ঘটতে পারত।”
মাদুরোর ‘পূর্ণ আস্থাভাজন’ নেতা
৫৬ বছর বয়সী ডেলসি রদ্রিগেজ কারাকাসে জন্মগ্রহণ করেন এবং সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব ভেনেজুয়েলা থেকে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ‘চাভিসমো’ আন্দোলনের অন্যতম শীর্ষ নেতা, যা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট হুগো শ্যাভেজ। ২০১৩ সালে শ্যাভেজের মৃত্যুর পর মাদুরো নেতৃত্ব নেন।
রদ্রিগেজ ২০১৩–১৪ সালে যোগাযোগ ও তথ্যমন্ত্রী, ২০১৪–১৭ সালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। ২০১৭ সালে তিনি সংবিধানিক জাতীয় পরিষদের সভাপতি হন এবং ২০১৮ সালে মাদুরো তাকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে নিয়োগ দেন। বিতর্কিত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর ২০২৫ সালের ১০ জানুয়ারি শুরু হওয়া মাদুরোর তৃতীয় মেয়াদেও তিনি ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে ছিলেন।
মাদুরো আটক হওয়া পর্যন্ত রদ্রিগেজ দেশটির প্রধান অর্থনৈতিক কর্তৃপক্ষ ও পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত?
মাদুরো আটক হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও রদ্রিগেজের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করেন, রদ্রিগেজ মাদুরোর ‘মধ্যপন্থী’ বিকল্প নন। জ্যাক ডি. গর্ডন ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ইমদাত ওনার বলেন, “রদ্রিগেজ পুরো ব্যবস্থার অন্যতম কঠোর ও ক্ষমতাধর নেতা। তার উত্থান সম্ভবত মাদুরো-পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য আন্তর্জাতিক বোঝাপড়ার অংশ।”
প্রথম প্রতিক্রিয়ায় রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো সহযোগিতার ইঙ্গিত দেননি। তিনি মাদুরো ও ফ্লোরেসের অবস্থান অজানা বলে জানান এবং তাদের জীবিত থাকার প্রমাণ দাবি করেন। পরে জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের বৈঠকে আরও কড়া ভাষায় মার্কিন অভিযান নিন্দা করেন এবং বলেন, “এই দেশে একজনই প্রেসিডেন্ট—তার নাম নিকোলাস মাদুরো মোরোস।”
ঘটনার পরপরই ডেলসি রদ্রিগেজই এখন ভেনেজুয়েলা সরকারের সবচেয়ে দৃশ্যমান মুখ।