মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক সংকটের সুরাহা করতে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। সম্প্রতি মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মিলিত হন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। ওই বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক ও জটিল পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এই কূটনৈতিক বৈঠকে মিশরের কায়রো প্রশাসন যেভাবে ইরান ও মধ্যকার দীর্ঘদিনের বৈরিতা ও দূরত্ব কমিয়ে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, বেইজিং সেই প্রশংসনীয় উদ্যোগের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করেছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রভাব কেবল অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা বৈশ্বিক অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই সংকট নিরসনে কায়রো দীর্ঘদিন ধরে পর্দার আড়ালে এবং প্রকাশ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে। তেহরান এবং ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আস্থার সংকট দূর করতে মিশরীয় কূটনীতিনিদের এই প্রচেষ্টা বেশ ফলপ্রসূ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এমন একটি স্পর্শকাতর মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরাশক্তি হিসেবে চীনের এই সমর্থন মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। বেইজিংয়ের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, যুদ্ধ বা সংঘাত নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা সম্ভব। চীন ও মিশরের এই যৌথ কূটনৈতিক বোঝাপড়া আগামী দিনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বরফ গলাতে এবং মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে বড় ধরনের ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।