বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ইসলামী আন্দোলনের দায়িত্বশীলদের একমাত্র লক্ষ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা। জামায়াতে ইসলামী হচ্ছে একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান। কারণ আমরা দেশ ও জাতির কল্যাণের জন্য সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি করি। দিন দিন জামায়াতের জনশক্তি বাড়ছে। এই জনশক্তিকে জনসম্পদে পরিণত করতে হবে। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভুমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর জাতি একটি পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলো। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতায় গিয়ে সেই স্বপ্নকে গলাটিপে হত্যা করতে শুরু করেছে। তারা পতিত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের পতন থেকে শিক্ষা নেয়নি, তাই জুলাই সনদকে উপেক্ষা ও গণভোটের রায় বাতিলের মাধ্যমে ছাত্র-জনতার রক্তের সাথে প্রতারণা করেছে। তারা নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের দিকেই ধাবিত হচ্ছে। এর পরিণতি তাদেরকে ভোগ করতে হবে। ভুলে গেলে চলবেনা জনদুর্ভোগ তৈরি ও গণরায় উপেক্ষা করে জনসমর্থন আশা করা যায়না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহতদের আকাঙ্ক্ষা পূরণ ও বৈষম্যহীন মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে জামায়াতের পথচলা অব্যাহত থাকবে।
তিনি শুক্রবার (৮ মে) সকালে সিলেট অঞ্চল জামায়াতের উপজেলা ও থানা দায়িত্বশীল সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিলেট অঞ্চল পরিচালক এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের সভাপতিত্বে এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে সিলেট বিভাগের সিলেট মহানগর, সিলেট জেলা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার জেলা ও উপজেলা-থানা দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের পথ কোনোকালেই সহজ ছিলনা। কারণ দ্বীন প্রতিষ্ঠার পথ জুলুম, নিপীড়ন ও শাহাদাতের পথ। সর্বোচ্চ ত্যাগের শপথ নিয়েই আমরা ইসলামী আন্দোলনে শামিল হয়েছি। সুতরাং আমাদেরকে ভয়ভীতি দেখিয়ে কোনো লাভ নেই। জামায়াতকে নিয়ে ষড়যন্ত্র হয়েছে আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দকে বিচারের নামে অবিচার চালিয়ে শহীদ করা হয়েছে। কিন্তু দমিয়ে রাখা যায়নি।