সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং গণহত্যার বিচারের দাবিতে ‘অদম্য জুলাই’ শিরোনামে মাসব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ।
এ ছাড়া রক্তাক্ত জুলাইয়ের স্মৃতি নিয়ে গল্প, উপন্যাস, গবেষণা প্রবন্ধ ও সাময়িকী প্রকাশ, রাজধানীতে ‘শিশুদের চোখে জুলাই জাগরণ’ শীর্ষক প্রদর্শনী, ‘জুলাই জাগরণ’ ডকুফিল্ম প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, গবেষণা সম্মেলন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হবে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ শীর্ষক আলোকচিত্র ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, স্মৃতিচারণ, স্মৃতিলিখন, বক্তব্য, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি জেলায় শহীদদের নামে পাঠাগার প্রতিষ্ঠা, ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি’ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, শহীদ পরিবার, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী গাজীদের নিয়ে ‘লাল জুলাই’ শীর্ষক সাক্ষাৎকার ও পডকাস্ট, শহীদদের কবর জিয়ারত, আহত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ‘Echoes of July’ শিরোনামে ৩৬ দিনব্যাপী অনলাইন ক্যাম্পেইন পরিচালনারও ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জুলাইয়ের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে ছাত্রশিবিরের সব বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর ও জেলা শাখার তত্ত্বাবধানে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
লিখিত বক্তব্যে কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে শহীদ আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, ওয়াসিম, শান্ত, শরীফ ওসমান হাদীসহ সব শহীদ, আহত ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে তিনি শহীদদের হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার দাবি জানান।
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও গণভোটের ম্যান্ডেট সরকার উপেক্ষা করছে। প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে এবং স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জারি করা অধ্যাদেশ বাতিল করে বিচার বিভাগকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নূরুল ইসলাম দাবি করেন, বর্তমান সরকারের ৫৯ শতাংশ সংসদ সদস্য ঋণখেলাপি। এছাড়া টিআইবি ও পুলিশের তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকার গঠনের প্রথম ১০০ দিনে দেশে ৯১৫টি হত্যাকাণ্ড ও ২০৯টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত বহন করে।
শিক্ষাঙ্গনের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম লক্ষ্য ছিল সন্ত্রাসমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলা। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
শিবির সভাপতি বলেন, কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর ক্ষমতালিপ্সার কাছে অভ্যুত্থানের অর্জন ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না। বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি ঘোষিত ৩৬ দিনের কর্মসূচি সফল করতে ছাত্রসমাজ ও দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ, মিডিয়া সম্পাদক মু’তাসিম বিল্লাহ শাহেদী, প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক ও ডাকসু জিএস এস এম ফরহাদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।