স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৬, ০৯:২১
রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল-এ দালাল ও কমিশনভিত্তিক সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে সক্রিয় দালালচক্র রোগীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের পেইং শিশু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন বিভাগে কিছু ব্যক্তি রোগীদের ব্যবস্থাপত্র দেখে কোথায় পরীক্ষা করাতে হবে, কত খরচ হবে এবং কোন ক্লিনিকে যেতে হবে—এসব পরামর্শ দিচ্ছেন। পরে রোগীদের হাতে নির্দিষ্ট ক্লিনিকের ঠিকানা ও মোবাইল নম্বরও তুলে দেওয়া হচ্ছে। রোগী ও স্বজনদের দাবি, এরা হাসপাতালের কর্মচারী নন; বরং কমিশনের ভিত্তিতে রোগী সংগ্রহকারী দালাল।
রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের গেট, জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগে অবস্থান নেওয়া দালালরা দ্রুত চিকিৎসা, টিকিট, সিরিয়াল, সিট কিংবা পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে রোগীদের আশপাশের বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। বিনিময়ে তারা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে কমিশন নেওয়ার পাশাপাশি রোগীদের কাছ থেকেও অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মচারী জানান, বিভিন্ন সিন্ডিকেট গ্রাম থেকে আসা অসহায় রোগীদের টার্গেট করে হাসপাতালের ভোগান্তির কথা বলে বাইরে নিয়ে যায়। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্যবস্থাপত্র দেখেই কম খরচে দ্রুত পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখানো হয়।
সেবা পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা
হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ, টিকিট কাউন্টার, ব্যাংক, চিকিৎসকদের কক্ষ এবং বিভিন্ন পরীক্ষাকেন্দ্রে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি হওয়ায় অনেকেই বারান্দা ও মেঝেতে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
রোগী ও স্বজনরা অভিযোগ করেন, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, শৌচাগারের নাজুক অবস্থা, সিট সংকট এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পেতে বিলম্বের সুযোগ কাজে লাগিয়ে দালালচক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
হাসপাতালে জনবল ও অবকাঠামো সংকট
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৯০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে দৈনিক প্রায় তিন হাজার এবং জরুরি বিভাগে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। চিকিৎসক ও নার্সের পদেও জনবল ঘাটতি রয়েছে। এছাড়া ডায়ালাইসিস মেশিনসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
দালালচক্রের অস্তিত্ব স্বীকার কর্তৃপক্ষের
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এটিএমএ রুস্তম দালালচক্রের সক্রিয়তার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যা রয়েছে। অভিযান চালিয়ে দালালদের আটক করা হলেও জামিনে বের হয়ে তারা আবার একই কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি বলেন, রোগীদের চাহিদার তুলনায় জনবল ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। কয়েকটি নতুন ভবন নির্মাণ এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ চালুর প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমিয়ে রোগীদের জন্য সেবার মান উন্নয়নে হাসপাতাল প্রশাসন কাজ করছে বলে জানান তিনি।