আয়কর তথ্য নিয়ে বিতর্কের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দিলেন এনসিপি প্রার্থী সারজিস আলম
ঢাকা, বাংলাদেশ — ৭ জানুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর প্রার্থী সারজিস আলম তার হলফনামায় আয়কর রিটার্ন সংক্রান্ত তথ্যে টাইপিং মিস্টেক থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে বিষয়টি আইনগতভাবে সংশোধন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে পঞ্চগড় শহরের লিচুতলা এলাকায় এনসিপির জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি জানান, তার হলফনামায় আয়কর রিটার্নে অনিচ্ছাকৃত একটি টাইপিং মিস্টেক ছিল, যা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে অবহিত করে নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী সংশোধন করা হয়েছে।
সারজিস আলম বলেন, তার আইনজীবীর অসাবধানতাবশত আয়কর রিটার্নে প্রকৃত ৯ লাখ টাকার পরিবর্তে ২৮ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছিল। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আইনগত প্রক্রিয়ায় সংশোধন করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
সম্প্রতি হলফনামা ও আয়কর রিটার্নের তথ্যে অসঙ্গতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতেই এই ব্যাখ্যা দেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পেইড প্রোপাগান্ডা সেল থেকে তার বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে এমন গুজবও ছড়ানো হয়েছে যে আমি নাকি ওবায়দুল কাদেরকে দেশ ছেড়ে পালাতে আমার গাড়িতে করে সহযোগিতা করেছি। যারা আমাদের পেলে মাথা আলাদা করে দেবে, তাদের আমরা কেন সহযোগিতা করব?”
এ সময় তিনি বিএনপির দিকেও অভিযোগ তুলে বলেন, বিএনপি বর্তমানে নানা ধরনের গুজব ছড়াচ্ছে, তাদের কর্মীদের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে এবং নির্বাচনে কালো টাকার প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে—যা অতীতে আওয়ামী লীগ করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিজের পেশা সম্পর্কে সারজিস আলম বলেন, তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পণ্য সরবরাহের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। “আমরা কোনো ধরনের তথ্য গোপন করিনি। যা সত্য, সেটাই হলফনামায় দেখানো হয়েছে,” বলেন তিনি।
স্ত্রীর সম্পদ সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি জানান, সদ্য বিবাহিত হওয়ায় তার স্ত্রীর নামে উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ নেই। তিনি এখনো পড়াশোনা করছেন, গৃহিণী এবং কোনো ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত নন।