[ময়মনসিংহ প্রতিনিধি ]Daily Crisis BD
ময়মনসিংহ-১৪৬ আসনে রিক্সা প্রতীকের প্রার্থীকে ঘিরে বিস্ফোরক অভিযোগ, নিজের মামার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, মায়ের জানাজা পড়াতে নিষেধাজ্ঞা, অর্থ আত্মসাৎ ও জমি দখলের অভিযোগে উত্তাল ফুলপুর–তারাকান্দা।
ময়মনসিংহ-১৪৬ (ফুলপুর–তারাকান্দা–২) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের রিক্সা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহকে কেন্দ্র করে একের পর এক ভয়াবহ অভিযোগ সামনে আসছে। প্রার্থী ঘোষণার পর থেকেই তার অতীত, ব্যক্তিগত আচরণ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও আর্থিক অনিয়ম নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, এখন সাধারণ ভোটারদের পাশাপাশি তার নিজ দলের নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে বিব্রত হয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রার্থী পরিবর্তনের দাবি তুলছেন।
সবচেয়ে আলোচিত ও নৈতিকভাবে নাড়া দেওয়া অভিযোগ এসেছে তার নিজের আপন মামা, প্রায় নব্বই বছর বয়সী মাওলানা ছফর উদ্দিনের কাছ থেকে। এই বৃদ্ধের দাবি, যাকে তিনি সন্তানের মতো মানুষ করেছেন, আশ্রয় দিয়েছেন, খাবার ও থাকার ব্যবস্থা করেছেন—সেই ভাতিজা মুহাম্মাদুল্লাহই তাকে মিথ্যা হত্যা মামলার আসামি বানিয়েছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ ও চলাফেরায় অক্ষম এই মানুষটির প্রশ্ন এখন পুরো এলাকায় প্রতিধ্বনিত হচ্ছে—ক্ষমতার লোভ মানুষকে কতটা অমানবিক করে তুলতে পারে?
ছফর উদ্দিনের অভিযোগ অনুযায়ী, জমি-জমা নিয়ে ভাতিজার অন্যায় দাবি মেনে না নেওয়ায় মুহাম্মাদুল্লাহ ও তার ভাই পরিকল্পিতভাবে মামা-মামীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা করেছেন। পাল্টা হিসেবে সম্পত্তি লুটপাট ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামার পক্ষ থেকে মুহাম্মাদুল্লাহর বিরুদ্ধে ৮৬ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের মামলা দায়ের করা হয়েছে, যা বিষয়টিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে।
পারিবারিক সূত্রে উঠে এসেছে আরও এক ভয়ংকর ও বিবেক নাড়া দেওয়া তথ্য। মুহাম্মাদুল্লাহর নিজের মা মৃত্যুর আগে নাকি অসিয়ত করে যান—তার জানাজা যেন এই ছেলেকে দিয়ে না পড়ানো হয়। স্বজনদের ভাষ্য, ছেলের আচরণে তিনি এতটাই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন যে জীবনের শেষ সময়েও শান্তি পাননি। একজন মায়ের পক্ষ থেকে এমন সিদ্ধান্ত স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং মুহাম্মাদুল্লাহর চরিত্র নিয়ে মানুষের প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, জন্মস্থান টাঙ্গাইলেও মুহাম্মাদুল্লাহ ও তার পরিবার স্থানীয়দের সাথে বিরোধে জড়িয়ে পড়ে এক পর্যায়ে সেখান থেকে বিতাড়িত হন। পরে আশ্রয়ের খোঁজে ফুলপুরে মামার বাড়িতে ঠাঁই নিলেও এখানেও তার আচরণ বদলায়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। বরং এখানেই তার বিরুদ্ধে জমি দখল, পারিবারিক চক্রান্ত ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আরও প্রকাশ্যে আসে।
ফুলপুরের রহিমগঞ্জ এলাকার আবু বক্কর ছিদ্দিকের ছেলে মামুন মিয়া অভিযোগ করেন, মুহাম্মাদুল্লাহ বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে টাকা ধার নিলেও পরে তা ফেরত দেননি। বারবার তাগাদা দেওয়ার পর তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান। মামুনের অভিযোগের সঙ্গে মিল রেখে আরও অনেকেই একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন, যদিও সামাজিক চাপ ও ভয়ের কারণে তারা প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পাননি।
এলাকাবাসীর বক্তব্য অনুযায়ী, যেসব মামারা তাকে আশ্রয় ও সহযোগিতা করেছিলেন, মুহাম্মাদুল্লাহ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা তো দেখানইনি—বরং উল্টো সম্পত্তির প্রতি লোভ দেখিয়ে চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছেন। জমি নিজের ইচ্ছেমতো না পেয়ে মামীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগে পরিবার ভেঙে পড়ে এবং সেই ক্ষোভ ধীরে ধীরে পুরো এলাকায় জনরোষে রূপ নেয়।
স্থানীয়রা বলছেন, এসব অভিযোগ নতুন নয়; দীর্ঘদিন ধরেই এলাকাবাসী এগুলো জানে। তবে একজন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থীর বিরুদ্ধে যখন এমন নৈতিকতা-বিবর্জিত অভিযোগ একের পর এক সামনে আসে, তখন তা শুধু ব্যক্তিগত বিষয় থাকে না—এটি পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও রাজনীতির জন্য লজ্জাজনক হয়ে ওঠে।
ফুলপুর–তারাকান্দার অনেক খেলাফত মজলিস নেতাকর্মীরাও আড়ালে-আবডালে স্বীকার করছেন, এই প্রার্থীকে সামনে রেখে ভোটের মাঠে নামা তাদের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক ও নৈতিক সংকট তৈরি করেছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এত অভিযোগের ভার নিয়ে মুফতি মুহাম্মাদুল্লাহ কি আদৌ জনগণের প্রতিনিধিত্ব করার নৈতিক অধিকার রাখেন? প্রশ্ন জনমনে