ঝালকাঠি, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝালকাঠি-১ ও ঝালকাঠি-2 আসনে জয় না পেলেও বিপুল ভোট পেয়ে আলোচনায় এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দুটি আসনেই তারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোটের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ঝালকাঠি-১: হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
জেলা জামায়াত সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জরিপে দুটি আসনই ‘সি গ্রেড’ হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তবে প্রার্থী ঘোষণা ও গণসংযোগের পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে।
ঝালকাঠি-১ আসনে প্রার্থী পরিবর্তন করে ড. ফয়জুল হককে মনোনয়ন দেওয়ার পর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে জনসমর্থন দ্রুত বাড়ে। শেষ পর্যন্ত তিনি ৫৫ হাজার ১২০ ভোট পান।
এ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম জামাল পান ৬২ হাজার ১০ ভোট। ব্যবধান ছিল মাত্র ৬ হাজার ৮৯০ ভোট।
ভোটের ইতিহাস বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জামায়াত প্রার্থী পান ১ হাজার ৮৬০ ভোট এবং ১৯৯৬ সালে পান ৯২৫ ভোট। সেখান থেকে ২০২৬ সালে এসে ভোট বেড়ে দাঁড়ায় ৫৫ হাজারের বেশি—যা দলটির জন্য বড় উত্থান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঝালকাঠি-২: ব্যবধান বেশি, তবু ভোট বৃদ্ধি
ঝালকাঠি-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী শেখ নেয়ামুল করিম পান ৭০ হাজার ৫৫৬ ভোট। যদিও বিএনপি প্রার্থী ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর কাছে প্রায় ৪৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি।
তবে ঝালকাঠি পৌরসভা এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ১ হাজার ৪৪২। এখানে বিএনপি পায় ১১ হাজার ৪৯৬ ভোট এবং জামায়াত পায় ১০ হাজার ৫৪ ভোট। কয়েকটি কেন্দ্রে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রথমও হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ভোটব্যাংক ভবিষ্যৎ পৌর নির্বাচনে জামায়াতকে সুবিধাজনক অবস্থানে রাখতে পারে।
সাংগঠনিক বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতা
অনুসন্ধানে জানা যায়, জেলার ৩২টি ইউনিয়নে এতদিন জামায়াতের কোনো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়নি। কেবল ঝালকাঠি পৌরসভার একটি ওয়ার্ডে একবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছিল। বর্তমানে প্রতিটি ইউনিয়নে দলটির কমিটি রয়েছে।
এবারের নির্বাচনে সব কেন্দ্রে এজেন্ট দেওয়া হলেও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে এজেন্ট বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। দলীয় সূত্রে সমন্বয় ঘাটতি ও প্রচারে বিলম্বের কথাও স্বীকার করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, প্রার্থীরা মাঠে নামতে কিছুটা দেরি করেছেন, যার প্রভাব ভোটে পড়েছে।
জেলা আমিরের বক্তব্য
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, জাতীয় পর্যায়ে দলটির জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এবং তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠন বিস্তৃত হওয়ার কারণেই ভোট বেড়েছে।
আসন হারানোর বিষয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু কেন্দ্রে এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে এবং সংখ্যালঘু ভোটারদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা হয়েছে। এসব কারণে জয় পাওয়া সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সারসংক্ষেপ
ঝালকাঠিতে জয় না পেলেও ভোটের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি জামায়াতের জন্য সাংগঠনিক ও রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।