কুয়াকাটা (পটুয়াখালী), ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পটুয়াখালীর পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে খাবারের হোটেলসহ আটটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আরও তিনটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে বেড়িবাঁধের বাইরে সমুদ্রসৈকত এলাকায় সিকুইন হোটেল ও শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির-সংলগ্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখায় দুটি খাবারের হোটেল, দুটি কাপড়ের দোকান, একটি মুদি-মনোহরি দোকান, একটি ঝিনুকের দোকান, একটি জেনারেটরের দোকান ও একটি চায়ের দোকান পুড়ে যায়।
খবর পেয়ে বাংলাদেশ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন—সালমা বেগম (হোটেল তিন কন্যা), নাসির হাওলাদার (বিসমিল্লাহ হোটেল), শহীদ সিকদার (ঝিনুকের দোকান), বেল্লাল হোসেন (কাপড়ের দোকান), মিলন (মুদি-মনোহরি দোকান), মিলন (জেনারেটরের দোকান) এবং একটি চায়ের দোকানের মালিক।
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেন, রাধাকৃষ্ণ মন্দিরের একটি কক্ষে রাখা লেপ-তোশক ও বালিশের পাশ থেকে, যেখানে কয়েল জ্বালানো ছিল, সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আবার অনেকে ধারণা করছেন, কোনো খাবার হোটেল থেকেও আগুনের উৎপত্তি হতে পারে। তবে প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হয়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে অধিকাংশ দোকান তালাবদ্ধ ছিল। একটি কক্ষে অবস্থানরত ব্যক্তিরা নিরাপদে বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। আগুন লাগার পর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করেন এবং পাশের দোকানের মালামাল সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়ার প্রায় এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়, ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও কুয়াকাটায় কোনো ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নেই। নিকটবর্তী কলাপাড়া থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে ফায়ার সার্ভিসকে আসতে হয়। তাই দ্রুত কুয়াকাটায় একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশন স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
রমজান মাসে এমন অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের সহায়-সম্বল প্রায় সবই পুড়ে গেছে।
এদিকে কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ, থানা পুলিশ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে।
কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ আবুল হোসেন বলেন, “খবর পাওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হবে।”