ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব
ঢাকা | ১৬ মার্চ ২০২৬
বাংলাদেশের ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ (PDPO) তৈরির সময়, মেটা শিশুদের বয়স সংজ্ঞা নিয়ে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মূলত তাদের ডেটা প্রোফাইলিং এবং কনটেন্ট মনিটাইজেশন ব্যবসার জন্য প্রয়োজন ছিল।
শিশুদের ডেটা ও প্রোফাইলিং
মেটার কার্যক্রম, বিশেষ করে ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম, প্রায় পুরো ব্যবসায়িক মডেল ব্যবহারকারীর ডেটা বিশ্লেষণের ওপর দাঁড়িয়ে। ১৩–১৭ বছর বয়সি কিশোর ব্যবহারকারীর তথ্য ব্যবহারে তারা প্রচুর এডভার্টাইজমেন্ট, কনটেন্ট রেভিনিউ এবং এআই ট্রেনিং পরিচালনা করে।
বাংলাদেশে প্রায় ৬–৮ মিলিয়ন কিশোর (১৩–১৭ বছর বয়সী) মেটার প্ল্যাটফর্মে সক্রিয়। শিশুদের ছবি, ভিডিও ও আচরণগত তথ্য নিয়মিতভাবে জমা হচ্ছে, যা ডেটা প্রোফাইলিং ও এআই প্রশিক্ষণে গুরুতর নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট
- অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের নিচের ব্যবহারকারীদের জন্য কঠোর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
- ফেসবুক স্বীকার করেছে যে তারা ব্যবহারকারীর পাবলিক ছবি, পোস্ট ও অন্যান্য ডেটা এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহার করে।
- শিশুদের ডেটা ব্যবহার নিয়ে বিশ্বব্যাপী নৈতিক ও আইনি প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
বাংলাদেশে আইনি নিরাপত্তা
বাংলাদেশের PDPO এবং সংশ্লিষ্ট সাইবার আইন শিশুদের জন্য বৃহৎ সুরক্ষা দিয়েছে। শিশুদের প্রোফাইলিং, লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন ও ডেটা ব্যবহার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। মেটা নানা ফোরামে চাপ দিয়েছে, বিশেষ করে শিশুদের বয়স ১৮ থেকে কমানোর দাবি জানিয়ে।
মূল প্রশ্ন ও উদ্বেগ
- শিশুদের তথ্য ও কনটেন্ট ব্যবহার করে কি প্ল্যাটফর্ম এআই ট্রেনিং বা বাণিজ্যিক প্রোফাইলিং চালাবে?
- বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের ডেটা নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি কতটা সুরক্ষিত?
- প্ল্যাটফর্ম কি বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী রেভিনিউ শেয়ার করছে?
- শিশুদের উপর নির্ভর করে কনটেন্ট মনিটাইজেশন বা ডেটা প্রোফাইলিং করা কি নৈতিকভাবে বৈধ?
বিশেষভাবে, বাংলাদেশে শিশুদের ডেটা প্রোফাইলিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন শুধু একটি আইনগত নয়, বরং ডিজিটাল যুগে শিশুদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের প্রশ্ন।