ইরানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে হরমুজ প্রণালী বর্তমানে শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর (বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল) জন্য কার্যত বন্ধ রয়ে। তবে ইরান দাবি করেছে যে অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য এই পথটি খোলা আছে, যদিও চলাচলের ক্ষেত্রে সরাসরি ইরানি নৌবাহিনীর সাথে সমন্বয় করতে হবে।
ইরানের পক্ষ থেকে প্রণালীটি পুরোপুরি উন্মুক্ত করার জন্য এবং চলমান যুদ্ধ বন্ধে বেশ কিছু শর্ত ও অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির আবেদন প্রত্যাখ্যান: ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে তেহরান কোনো যুদ্ধবিরতির আবেদন করেনি এবং ওয়াশিংটনের সাথে এ বিষয়ে কোনো আলোচনাতেও বসেনি। তাদের দাবি, এই যুদ্ধ ইরান শুরু করেনি, তাই এটি শেষ করার দায়িত্বও তাদের নয় যারা এটি শুরু করেছে।
তেহরানের শর্তসমূহ: যুদ্ধ বন্ধের জন্য ইরান প্রধানত তিনটি শর্ত বা গ্যারান্টি দাবি করেছে:
১.ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা হবে না—এমন নিশ্চয়তা প্রদান।
২.যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।৩.পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার।
চাপ সৃষ্টির কৌশল: ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেই এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, শত্রুদের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ রাখার নীতি বজায় থাকবে।
সীমিত চলাচলের সুযোগ: ইরান নির্দিষ্ট কিছু বন্ধুপ্রতিম দেশের (যেমন: ভারত ও তুরস্ক) জাহাজকে এই প্রণালী দিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে বা ইতিমধ্যে কিছু ক্ষেত্রে অনুমতি দিয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের এই সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।