রায়গঞ্জ (সিরাজগঞ্জ) | প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬
রায়গঞ্জে একসময়ের সারি সারি তালগাছ হারিয়ে যেতে বসেছে। কৃষিজমি সম্প্রসারণ, অপরিকল্পিত বৃক্ষনিধন ও পর্যাপ্ত রোপণের অভাবের কারণে তালগাছ কমে যাওয়ায় বজ্রপাতের ঝুঁকি, বন্যা এবং মাটির ক্ষয়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ বাড়ছে। পরিবেশবিদরা সতর্ক করে বলছেন, গ্রামীণ জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে তালগাছ সংরক্ষণ জরুরি।
একসময়ের রাস্তা, পুকুরপাড় এবং খেলার মাঠজুড়ে সারি সারি তালগাছ আজ চোখে পড়ে না। বাংলাদেশের গ্রামীণ ঐতিহ্য ও জীববৈচিত্র্যের অংশ এই গাছ এখন বিলুপ্তির পথে। বিশেষ করে তালপাতায় বাবুই পাখির নিপুণ কারুকাজে তৈরি বাসা হারিয়ে যাচ্ছে, যা নৈসর্গিক সৌন্দর্যের একটি অংশ ছিল।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) সিরাজগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক দীপক কুমার কর বলেন, “তালগাছ শুধু সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে না, এটি বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকবচের কাজও করে। তালগাছ কমে যাওয়ায় বজ্রপাতে মৃত্যু ও ক্ষতির ঘটনা বেড়েছে। এছাড়া বাবুই জাতীয় পাখির আশ্রয়স্থলও বিলুপ্ত হচ্ছে।”
তালগাছের অর্থনৈতিক গুরুত্বও কম নয়। তালের মিষ্টি রসে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, পাশাপাশি জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম। তালের মিশ্রি ও গুড় দিয়ে পায়েস ও পিঠা তৈরি হয়, যা গ্রামবাংলার খাদ্যসংস্কৃতিতে দীর্ঘদিন ধরে ঐতিহ্য বহন করছে। এছাড়া তালপাতা দিয়ে পাটি, চাটাই, মাদুর, হাতপাখা এবং কুটিরশিল্প পণ্য তৈরি হয়।
পরিবেশবিদদের মতে, তালগাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি গ্রামীণ জীবন, সংস্কৃতি ও পরিবেশের প্রতীক। এই গাছ হারালে প্রকৃতির ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে, বাবুই পাখির নিরাপদ আবাসস্থল নষ্ট হবে এবং গ্রামবাংলার অনন্য নান্দনিকতা হারিয়ে যাবে।