প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬
অনলাইনভিত্তিক পনজি স্কিম এমটিএফইর মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা বিপুল অর্থের প্রায় ৪৪ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে সিআইডি। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দেশে ফেরত আনা এই অর্থ সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার প্রতারণা দমন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সিআইডি সদর দপ্তরে সোমবার অনুষ্ঠিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সংস্থার ডিআইজি আবুল বাশার তালুকদার জানান, ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ের উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে পরিচালিত এমটিএফই মূলত একটি প্রতারণামূলক পনজি স্কিম। ২০২২ সালের জুন থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এই প্ল্যাটফর্ম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউবে আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন ও ভিডিওর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করা হতো। ভার্চুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্টে কৃত্রিমভাবে লাভ দেখিয়ে আস্থা তৈরি করা হলেও প্রকৃত লেনদেন সম্পূর্ণ ভুয়া ছিল। প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু বিনিয়োগকারীকে অর্থ ফেরত দিয়ে আস্থা অর্জনের পর ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়।
তদন্তে দেখা গেছে, বিনিয়োগকারীদের অর্থ বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি) ব্লকচেইন বিশ্লেষণ টুল ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ শনাক্ত করে এবং সংশ্লিষ্ট এক্সচেঞ্জের সঙ্গে যোগাযোগ ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থ দেশে ফেরত আনা হয়।
আদালতের নির্দেশনায় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক পিএলসিতে ‘CID, Bangladesh Police’ নামে সরকারি হিসাব খোলা হয়, যেখানে উদ্ধারকৃত অর্থ জমা রাখা হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সহায়তায় ক্রিপ্টোকারেন্সিকে বৈধ মুদ্রায় রূপান্তর করে দেশে আনা হয়েছে।
সিআইডি জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৩৬ লাখ ২২ হাজার ৯৯৮ মার্কিন ডলার (প্রায় ৪৪ কোটি ১৪ লাখ টাকা) উদ্ধার করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ও কূটনৈতিক সহায়তাও এই প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বর্তমানে মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তাদের মধ্যে অর্থ ফেরত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া এমটিএফই চক্রের মাধ্যমে পাচার হওয়া বাকি অর্থ উদ্ধারের কাজও অব্যাহত রয়েছে।