ঢাকা — ৩১ মার্চ ২০২৬
চতুর্থ প্রজন্মের সাউথ বাংলা অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স (এসবিএসি) ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল। ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঈনুল কবীরের মতে, আগামী তিন বছরের মধ্যে ব্যাংকটিকে দেশের সেরা ২০-২৫টি ব্যাংকের মধ্যে নিয়ে যাওয়াই প্রধান লক্ষ্য। তিনি ব্যাংকের বর্তমান আর্থিক অবস্থা, ডিজিটাল ব্যাংকিং, ঋণ বিতরণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে ‘আমার দেশ’-এর সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।
বর্তমান অবস্থা:
মঈনুল কবীর জানান, ব্যাংকটি বর্তমানে ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট ও ৭৭টি এটিএম বুথের মাধ্যমে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে। ব্যাংকের মোট আমানত প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা, ঋণ ও অগ্রিমের পরিমাণ ৯,২৬৫ কোটি টাকা, এবং ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮২ শতাংশ। মোট সম্পদ ১৩,৩৬০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) ১৪.২২ শতাংশ।
খেলাপি ঋণ ও নীতি:
কোভিড-১৯ ও ২০২৪ সালের রাজনৈতিক আন্দোলনের কারণে খেলাপি ঋণ কিছুটা বেড়েছে। তবে ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা পুনরায় সচল করে ঋণকে সহনীয় পর্যায়ে আনার চেষ্টা করছে।
ডিজিটাল ব্যাংকিং:
ব্যাংক ডিজিটালাইজেশনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে, যাতে গ্রাহক ঘরে বসেই স্কুল ফি, বিদ্যুৎ বিল ও অন্যান্য ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করতে পারেন। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঋণ বিতরণ নীতি:
এসবিএসিতে ঋণ বিতরণের প্রাধান্য রয়েছে এসএমই ও অ্যাগ্রোভিত্তিক শিল্প খাতে। মোট ঋণের প্রায় ৩৮ শতাংশ বর্তমানে এসএমই খাতে, যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
বোর্ড ও স্বচ্ছতা:
ব্যাংকের বোর্ড স্বাধীনভাবে কাজ করছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বোর্ড ম্যানেজমেন্টের কাজে বা ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।
গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি:
গ্রাহকের আস্থা বৃদ্ধি করতে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে ব্যাংক। ৫ আগস্টের পর থেকে কোনো গ্রাহক চেক জমা দিয়ে টাকা পাননি এমন কোনো ঘটনা হয়নি। এ সময় কাস্টমার ডিপোজিট প্রায় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা:
ব্যাংককে শক্তিশালী ও জনগণের ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে। তিন বছরের মধ্যে দেশের সেরা ২০-২৫ ব্যাংকের মধ্যে আনা এবং সাধারণ গ্রাহক ও এসএমই খাতে বিনিয়োগ ও সেবা বিস্তৃত করা প্রধান লক্ষ্য।
রেমিট্যান্স প্রভাব:
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে কিছুটা রেমিট্যান্স চাপ থাকতে পারে। বিদেশ থেকে দেশে ছুটি শেষে যারা ফিরে গেছেন, তারা প্রবাসে ফিরে যেতে পারছেন না, ফলে সাময়িক চাপ তৈরি হতে পারে।