নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টি-র কৌশল নিয়ে প্রশ্ন; পাল্টা মাঠে তৃণমূল কংগ্রেস
কলকাতা
প্রকাশ : ২৩ এপ্রিল ২০২৬
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বিতর্কিত ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়ায় লাখ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়ার অভিযোগ নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি করেছে। এই নির্বাচন এখন গণতান্ত্রিক অধিকার বনাম প্রশাসনিক কৌশলের সংঘাতে রূপ নিয়েছে।
মূল প্রতিবেদন
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের প্রথম দফা শুরু হতেই ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে উঠেছে। অভিযোগ উঠেছে, এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।
সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ১৬ জেলার ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ শুরু হলেও ভোটের পরিবেশে রয়েছে অনিশ্চয়তা ও অবিশ্বাস। ভারত নির্বাচন কমিশন-এর বিধিনিষেধ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর মোতায়েন এবং সীমান্তবর্তী এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রিত থাকলেও এর উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় অভিযোগ, প্রায় ৯১ লাখ ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন, যার মধ্যে অন্তত ৪০ লাখ বৈধ ভোটার রয়েছেন বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৯৮ লাখ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৬০ লাখে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়াটি প্রশাসনিক পদক্ষেপের আড়ালে একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, ভারতীয় জনতা পার্টি সরাসরি জনসমর্থনে পিছিয়ে থাকায় ভোটার তালিকায় হস্তক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনি সমীকরণ বদলানোর চেষ্টা করছে।
অন্যদিকে, এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে জনমত সংগঠিত করার চেষ্টা করছে তৃণমূল কংগ্রেস। ‘ভোটাধিকার রক্ষা মঞ্চ’-এর ডাকা ‘কালো দিবস’ পালন এবং কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
রাজনৈতিক মেরুকরণও এবার তীব্র আকার ধারণ করেছে। একদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, অন্যদিকে ধর্মীয় ইস্যুকে সামনে এনে ভোটব্যাংক সুসংহত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ। পাল্টা হিসেবে তৃণমূল কংগ্রেস এই অবস্থানকে ‘বহিরাগত আগ্রাসন’ হিসেবে তুলে ধরে আঞ্চলিক পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে আনছে।
বিশেষ করে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত জেলাগুলোয় ভোটের সমীকরণ অত্যন্ত স্পর্শকাতর হয়ে উঠেছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা যেমন বিভ্রান্তি তৈরি করেছে, তেমনি এটি সংখ্যালঘু ভোটকে আরও সংহত করতেও ভূমিকা রাখতে পারে—যা শেষ পর্যন্ত উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচন এখন কেবল একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং গণতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোর এক বাস্তব পরীক্ষা। ‘এসআইআর’ ইস্যুর প্রভাব কাটিয়ে উঠতে না পারলে ফলাফল ঘোষণার পরও রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র
- রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও মাঠপর্যায়ের তথ্য
- সংশ্লিষ্ট দল ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র