গতকাল ১১ জুন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের পক্ষ থেকে, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি এর প্রতিবাদে “বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়।
ঢাকা মহানগর উত্তর এর সভাপতি মাওলানা জাকারিয়া আল ফারুকির সভাপতিত্বে ও সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মুহাম্মাদ কামাল উদ্দীনের পরিচালনায় “বিক্ষোভ মিছিল” পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিসের মুহতারাম কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা জাহিদুজ্জামান।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন: “বর্তমান সরকার জনগণের কাছে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে এবং নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে এই ঢাকা-১৩ আসনের (মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর) তথাকথিত অবৈধ এমপি ববি হাজ্জাজ নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষকে নানা রকম মিথ্যা আশ্বাস দিয়েছিলেন। অথচ আজ তিনি এই আসনের অবহেলিত জনগণের কোনো খোঁজখবরই রাখছেন না। তার চরম উদাসীনতায় মোহাম্মদপুর আজ যেন সন্ত্রাসীদের এক অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।
গণমাধ্যমেও উঠে এসেছে যে, মোহাম্মদপুরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নামধারী ব্যক্তি। প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও অকপটে স্বীকার করছেন যে, পুলিশ যখন অপরাধীদের ধরতে যায়, তখন বড় বড় নেতারা এসে তদবির করেন এবং আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা হয়ে দাঁড়ান। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই—মোহাম্মদপুরকে এই ত্রাস, চাঁদাবাজ আর মাদক ব্যবসায়ীদের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে এসকল নেতাদের অনতিবিলম্বে এলাকা ছাড়া করতে হবে। প্রশাসনকে কোনো চাপের মুখে মাথা নত না করে শক্ত হাতে এদের দমন করতে হবে।”
একই সাথে তিনি জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং জনজীবন বিপর্যস্তকারী জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম অবিলম্বে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুর্শিদ সিদ্দিকী বলেন “এই এলাকার আপামর জনতা আল্লামা মামুনুল হকের ওপর আস্থা রেখে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের রায় দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের চরম কারচুপি ও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কারণে আজ জনগণের সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। আজ মোহাম্মদপুরের মানুষ সম্পূর্ণ অনিরাপদ ও চরম আতঙ্কের মধ্য দিনাতিপাত করছেন।
এই সংকটময় মুহূর্তে আমি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মোহাম্মদপুর, আদাবর ও শেরেবাংলা নগর থানা শাখার সকল স্তরের দায়িত্বশীল ও নেতা-কর্মীদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই—আপনারা সাধারণ মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়ান। জনগণের নিরাপত্তা ও হক আদায়ে রাজপথে থেকে আপনাদেরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করুন।”
এছাড়া বক্তব্য রাখেন যুব মজলিসের কেন্দ্রীয় সংগঠন বিভাগের সম্পাদক মাওলানা মোশাররফ হোসেন লাবিব, ছাত্র মজলিস ঢাকা মহানগর পশ্চিমের সভাপতি আদনান রাফী।