বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করে বলেছেন, ব্যাংক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পদে নিজ দলীয় লোক বসিয়ে সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করছে। কিন্তু দেশের জনগণ এ একদলীয় শাসনব্যবস্থা মেনে নেবে না। এ সময় তিনি সিটি কর্পোরেশনসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দিয়ে পরিচালনার দাবি জানান। একই মঞ্চে মাওলানা জব্বারকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেন।
১৯ জুন (জুম’আ বার) নারায়ণগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে বিশাল কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নারায়ণগঞ্জ মহানগর শাখা এই কর্মী সম্মেলনের আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে সংসদে বিরোধী দলকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে কথা বলত আওয়ামী লীগ। তারা সবচেয়ে বেশি বলত বিএনপিকে, তারপর জামায়াতে ইসলামীকে। বর্তমান সরকারও বিরোধী দলকে বিভিন্ন ধরনের ট্যাগ দিয়ে কথা বলে। কিন্তু দেশের জনগণ এগুলো খায় না। সরকারকে উদ্দেশ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আপনারা তরুণ সমাজের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। আওয়ামী লীগের পথে হাঁটবেন না।
তিনি আরও বলেন, যারা আজ শহীদ পরিবার ও পঙ্গু ভাইবোনদের প্রতি অবজ্ঞা ও উপহাস করে কথা বলেন, তারা নিজেদের সঙ্গেই প্রতারণা করছেন।
নারায়ণগঞ্জবাসীকে অভিনন্দন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কালো টাকা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ইঞ্জিনিয়ারিং সবকিছুকে উপেক্ষা করে নারায়ণগঞ্জে ১১-দলীয় জোটকে একটি আসনে জয়ী করেছেন। ভোট গ্রহণ যেভাবে সুষ্ঠু হয়েছে, ভোট গণনা এবং ফলাফলও যদি সুষ্ঠু হতো, তাহলে বাকি আসনগুলোতেও জোটের বিজয় হতো। কারণ নির্বাচনে জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচনের আগে বাসে, গাড়িতে, লঞ্চে, রাস্তাঘাটে—সব জায়গায় একই আওয়াজ উঠেছিল, ‘দাঁড়িপাল্লা, দাঁড়িপাল্লা’।
আমীরে জামায়াত উল্লেখ করেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে। এর মধ্যে গণভোটের পক্ষে প্রথমে বিএনপি ছিল না। পরে বাধ্য হয়ে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে গিয়ে বলতে বাধ্য হয়েছিল, ‘আপনারা গণভোটে হ্যাঁ-তে ভোট দেবেন।’ একবারই তিনি প্রথম এবং শেষবারের মতো একথা বলেছেন। এরপর জনগণ ৬৭ শতাংশের বেশি ভোট দিল। তিনি প্রশ্ন রাখেন, সংসদ নেতা, প্রধানমন্ত্রী এবং দেশের প্রধান নির্বাহী হিসেবে তিনি এর কী মূল্য দিলেন? তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনটা যাতে হয়ে যায়, সেজন্য একথা বলেছি।’ এটা লজ্জার। একটি সংগঠনের শীর্ষস্থান থেকে যদি জনগণকে ধোঁকা দেওয়া হয়, তাহলে রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের আস্থা কীভাবে থাকবে? মানুষ কেন রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বিশ্বাস করবে? আমরা সেই রাজনীতি করিনি, করবও না।
সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, সরকার ইতোমধ্যে অনেক অঘটন ঘটিয়েছে। বিভিন্ন স্থানে দলীয় লোক বসিয়ে একদলীয় শাসন কায়েম করতে চাইছে। একদলীয় শাসন জনগণ মেনে নেবে না। তরুণ সমাজের মুখের ভাষা বোঝার চেষ্টা করুন। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করে দেশ শাসন করলে জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে দেয়ালের মতো দাঁড়িয়ে যাবে। শেখ মুজিবুর রহমানও একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন। অর্ধেক বছরও ক্ষমতায় থাকতে পারেননি।
বাজেট প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকার একটি বড় বাজেট দিয়েছে। বাস্তবায়নও করবে সরকার। আওয়ামী লীগ বড় বাজেট দিয়ে ১৭ বছরে ২৯ লাখ কোটি টাকা নিয়ে গেছে। আপনারাও তা করবেন না। জনগণ মেনে নেবে না। তিনি বলেন, দুর্নীতি আগের চেয়ে বেড়ে গেছে। যদি এই অবস্থা জারি থাকে, তাহলে একটি গোষ্ঠীর ভাগ্যের পরিবর্তন হবে, জনগণের নয়।
নারায়ণগঞ্জের ব্যাপারে জামায়াত আমীর বলেন, এক সময় এই জেলাকে প্রাচ্যের ডান্ডি বলা হতো। এটি ছিল বাণিজ্যিক রাজধানী আর ঢাকা ছিল প্রশাসনিক রাজধানী। নারায়ণগঞ্জ তার গৌরব হারিয়ে ফেলেছে। মাঝখানে সন্ত্রাসের রাজধানী হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে।
ত্বকী হত্যা নিয়েও কথা বলেন আমীরে জামায়াত। তিনি বলেন, আপনারা ত্বকী হত্যার বিচার পেয়েছেন? মাঠ থেকে জবাব আসে, ‘না, না’। শুধু রক্ত আর কাড়ি কাড়ি লাশ এখানে উপহার দেওয়া হয়েছে। এরপর কেউ কেউ বলতেন, ‘খেলা হবে’। এখন আর কেউ বলে না ‘খেলা হবে’। এখন এখানে চলছে বোবা কান্না। ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক তাড়া করছে। তারা ভয়ে কথা বলতে চান না। কিন্তু চোখের ভাষা বোঝা যায়। চাঁদাবাজরা ব্যবসায়ীদের ভালো থাকতে দিচ্ছে না। বিএনপির নেতারা বলেন দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরবেন, আর ঘরে ঘরে চাঁদাবাজ লেলিয়ে রেখেছেন। কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই। মদের বিপণন ও উৎপাদনকারীর কেবল হাতবদল হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। জনগণ সময়মতো জবাব দেবে।
তিনি নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমীর আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বলেন, আমরা নারায়ণগঞ্জকে স্বচ্ছ, পরিচ্ছন্ন ও মর্যাদাশীল নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই এখানে দরকার ভালো মানুষ। এমন মানুষের প্রয়োজন, যে আল্লাহকে ভয় করে এবং যার যে হক, তা তার হাতে পৌঁছে দেয়। আমরা সৎ নেতৃত্ব তৈরি করব, ইনশাআল্লাহ। আবদুল জব্বারের ব্যাপারে তিনি বলেন, তার চোখে ও স্বপ্নে মানুষের কল্যাণ। আগামীতে যাতে ভোট জালিয়াতি না হয় সেব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমার বিশ্বাস, নারায়ণগঞ্জবাসী সৎ ও যোগ্য মানুষকেই ভোট দেবে।