গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে আজ ২০ জুন শনিবার দুপুর ২টায় খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের জনগণ আজ ঐক্যবদ্ধ। দেশের সর্বস্তরের মানুষ—যুবক, শিশু, নারী ও প্রবীণ—একসাথে দাঁড়িয়েছেন। এই জনজাগরণকে আর থামানো যাবে না। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, জনগণের রায়কে সম্মান করতে হবে। যারা জনরায়কে অগ্রাহ্য করে, তাদের পরিণতি ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে। অতীত থেকে শিক্ষা না নিলে ভবিষ্যতেও সেই ভুলের মাশুল দিতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা বিএনপিকে বলছি, আপনারা ভুল পথে এগোচ্ছেন। ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে ফিরে আসুন। জনগণকে সম্মান করুন, জনরায়কে সম্মান করুন। জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কোনো রাজনৈতিক শক্তি দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।
আওয়ামী লীগের পরিণতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-যুব সমাজের আন্দোলনকে সরকার দমন করার চেষ্টা করেছিল, নির্বিচারে মানুষ খুন ও পঙ্গু করা হয়েছিল। অবশেষে জনস্রোতের মুখে তৎকালীন বেহায়া ও নির্লজ্জ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অপমানজনকভাবে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হয়। তিনি মানুষ খুন, পঙ্গু করা, রাষ্ট্রের সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস, ব্যাংক-বিমা-শেয়ারবাজার লুণ্ঠন এবং অর্থ পাচার করেছেন, এবং শেষে তার ‘সেবাদাসী’ হিসেবে কাজ করা প্রভুদের কাছে আশ্রয় নিয়েছেন।
খুলনাবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, খুলনাবাসী, আমরা আপনাদের কাছে একটি অঙ্গীকার নিয়ে এসেছিলাম। আপনারা যে রায় দিয়েছেন, আমরা সেই রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। সংসদে গিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা সংগ্রাম চালিয়ে যাব। আমাদের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র ও কৌশলের মাধ্যমে ভোট কেড়ে নেওয়া হলেও আমরা পিছিয়ে যাব না। সংসদে যতটুকু শক্তি আছে, তা নিয়েই সিংহের মতো লড়াই করব, ইনশাআল্লাহ।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জানি, অনেক সময় ক্ষমতাসীনদের কানে জনগণের কথা পৌঁছায় না। সংসদে যদি জনগণের দাবি ও ন্যায়বিচারের সমাধান না হয়, তাহলে দেশের মাঠ-ঘাট, জনপদ ও জনসমাবেশ থেকেই জনগণ তাদের শক্তির প্রকাশ ঘটাবে। খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, রংপুর, রাজশাহী ও বগুড়াসহ সারাদেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হবে, বলেন তিনি।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফলাফল প্রসঙ্গে আমীরে জামায়াত বলেন, দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি। কিন্তু কেউ যেন মনে না করেন যে আমরা অন্যায়কে মেনে নিয়েছি। দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি না হোক, সে কারণেই আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি। কিন্তু অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।
জামায়াত নেতৃবৃন্দের ত্যাগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের নেতৃবৃন্দ জাতির স্বার্থে সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। তারা আমাদের শিখিয়েছেন, দেশের প্রয়োজনে হাসিমুখে কষ্ট ও সংগ্রামকে বরণ করে নিতে হয়। বাংলার ইতিহাসও সেই ত্যাগ ও সাহসিকতার শিক্ষা দেয়। জনগণ প্রয়োজনে সেই আদর্শ ধারণ করেই এগিয়ে যাবে।
বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা কোনো ধরনের আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করব না। সরকারকে স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদি দেশের স্বার্থ বিসর্জন দিয়ে বিদেশি প্রভুদের কাছে নতি স্বীকার করা হয়, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের মর্যাদা ও স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে জনগণ সর্বদা সচেতন ও প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোনো প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে চাই না। একইভাবে, আমাদের দেশেও যেন কোনো ধরনের অন্যায় হস্তক্ষেপ না হয়, সেটাও আমরা প্রত্যাশা করি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক প্রতিবেশীর সম্পর্ক চাই। তবে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ এলে, জনগণ তার জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মনে হচ্ছে দেশকে একটি নতুন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। এই পরিবর্তন কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়। এটি হবে একটি স্বাধীন, মর্যাদাবান, শক্তিশালী ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।
তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য একটি শোষণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজমুক্ত এবং দলীয় প্রভাবমুক্ত বাংলাদেশ গড়া। আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র চাই, যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত হবে। আমি বাংলাদেশের যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—দেশের কল্যাণে প্রস্তুত হোন। শুধু তরুণরাই নয়, জাতির প্রয়োজনে প্রবীণরাও নিজেদের যুবকের মতো প্রস্তুত রেখেছেন। অন্যায়, শোষণ, আধিপত্যবাদ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে একসাথে লড়াই করতে হবে। সবাই মিলে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ার জন্য কাজ করার আহ্বান জানান আমীরে জামায়াত।