আজ রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে জ্বালানি তেল ও গ্যাস সংকট, বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে আয়োজিত অবস্থান কর্মসূচিতে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন,জ্বালানি খাতকে বেসরকারিকরণ ও আমদানিনির্ভর নীতি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহকারী রাষ্ট্রীয় ছয়টি কোম্পানিকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার বিষয়ে সরকারের আলোচনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একই সঙ্গে দেশকে ক্রমাগত এলএনজি (LNG) আমদানির ওপর নির্ভরশীল করে তোলার নীতি বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তাকে দুর্বল করছে। গত এক দশকে এলএনজির ব্যবহার প্রায় ৬–৭ শতাংশ থেকে বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দেশীয় জ্বালানি সক্ষমতা ধ্বংসেরই প্রমাণ।
তিনি বলেন, সরকার এখন মিয়ানমার (বার্মা) থেকে এলএনজি আমদানির কথাও বলছে। অথচ প্রায় ১৭ লাখ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সমস্যা আজও অমীমাংসিত। এমন পরিস্থিতিতে একটি অনিশ্চিত প্রতিবেশী দেশের ওপর জ্বালানি নির্ভরতা কোনো বিচক্ষণ রাষ্ট্রনীতির পরিচয় হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ প্রকল্পের নামে অতীতে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাটের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছিল। এখন একই কায়দায় তেল, গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতকে বেসরকারিকরণের মাধ্যমে নতুন করে জাতীয় সম্পদকে করপোরেট স্বার্থের হাতে তুলে দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। এই নীতি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলবে।
তিনি আরও বলেন, যে প্রাকৃতিক গ্যাসের কারণে বাংলাদেশ একসময় প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণ ছিল, সেই খাতকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে কার্যকরভাবে ব্যবহার না করে বিদেশ নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের মালিকানাধীন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গ্যাস ব্লক থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘ বছরেও উল্লেখযোগ্য গ্যাস উত্তোলন শুরু হয়নি, যা সরকারের চরম ব্যর্থতার পরিচায়ক।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাপেক্সকে শক্তিশালী করা এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জ্বালানি নীতি প্রণয়নই বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ। অন্যথায় বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত নির্ভরতার ফাঁদে আটকে পরতে হবে।
তিনি জনগণের স্বার্থবিরোধী সব ধরনের জ্বালানি নীতির বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান এবং জাতীয় সম্পদ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ পরিকল্পিতভাবে দেশের জ্বালানি খাতকে বেসরকারি মালিকানায় হস্তান্তর এবং আমদানিনির্ভর করার উদ্যোগ বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। জনগণের কষ্টার্জিত অর্থে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রীয় সম্পদ করপোরেট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়ার যে অপচেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।