১১ দলীয় সমাবেশে বিশেষ অতিথি বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মোঃ নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, ‘আজ আমরা এখানে জড়ো হয়েছি বিচারের দাবিতে। এটা আমাদের জন্য দুঃখজনক, আমাদের জন্য হতাশার। গণঅভ্যুত্থানের দুই বছরের মাথায়ও বিচারের দাবিতে আমাদেরকে রাজপথে হাজির হতে হচ্ছে।’
বিচারের ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করে এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পরে গত চার মাসে আইসিটিতে নতুন কোনো রায় হয়নি, নতুন কোনো তদন্ত রিপোর্ট এখন পর্যন্ত দাখিল হয়নি। এটা স্পষ্ট নতুন যাকে দায়িত্ব দেয়া তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। অবিলম্বে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। নতুন যোগ্য কাউকে দায়িত্বে বসাতে হবে যিনি গণহত্যা বিচার করতে সক্ষম হবেন এবং দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারের সকল ব্যবস্থা নিশ্চিত করবেন।
সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই সমাবেশ থেকে আমরা স্পষ্ট করে বলছি, পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ড ও ওসমান হাদী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। বিচার করতে না পারলে এ সরকার পাঁচ বছর টিকতে পারবে না।’
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের বিষয়ে নাহিদ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিগত ষোলো, সতেরো বছরের অসংখ্য, গুম, খুন গ*ণহত্যা চালিয়েছে এদেশের সাধারণ মানুষের ওপর, বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীদের ওপর। তার ফলশ্রুতিতে গণঅভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনাকে দিল্লীতে পালিয়ে যেতে হয়েছিল। গণহত্যার মাধ্যমে আওয়ামীলীগ বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে আর সংস্কার না করায় বিএনপি জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েছে। এই দুই শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সংস্কার, বিচার এবং এদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এগারো দলীয় ঐক্য সংসদ ও সংসদের বাইরে লড়াই চালিয়ে যাবে।’
সরকারের তিন মন্ত্রণালয়কে দায়ী করে তিনি বলেন, ‘বিচার করতে না পারার কারণে আইনমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। নিরাপত্তা দিতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। গণমাধ্যম ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসন ঠেকাতে না পারায় তথ্যমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। সবকিছু বাংলাদেশ এর জনগণ দেখছে। আওয়ামী লীগের শেকড় দিল্লীতে, এজন্য তাদের আশ্রয় হয়েছে দিল্লীতে। তারা ভারতীয় পার্টিতে পরিণত হয়েছে। আওয়ামী লীগের রাজনীতি করার সুযোগ পাঁচ আগস্ট সমাপ্ত হয়ে গেছে। যারা আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করার স্বপ্ন দেখছে তাদের পরিণতি আওয়ামীলীগ এর মতোই হবে।’