দেশের সকল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের করতে সরকার ‘এয়ার গার্ড অব বাংলাদেশ’ (এজিবি) নামে একটি নতুন আধাসামরিক বাহিনী গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।
গঠন করা হয়েছে ১২ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি।
এই বাহিনীটি বিমানবন্দরের সংবেদনশীল এলাকা যেমন এপ্রন, ফুয়েল ডিপো, কার্গো পরিবহন এবং অব্যবহৃত রানওয়ে সুরক্ষিত করবে, এবং সংগঠিত অপরাধ, সাইবার আক্রমণ, ড্রোন হামলা, বোমা হুমকি এবং অর্থ পাচার প্রতিরোধে কাজ করবে।
এর মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের সংযোগ অটুট রাখা এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) নির্দেশিকা মেনে চলা সম্ভব হবে।
এই উদ্যোগটি বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রস্তাবনা থেকে উদ্ভূত হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করবে।
এজিবি বাহিনীটি আধাসামরিক বাহিনী হিসেবে কাজ শুরু করবে এবং পরবর্তীতে একটি অধিদপ্তরে রূপান্তরিত হবে। এর সদস্যরা মূলত বাংলাদেশ বিমানবাহিনী থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত হবে, যাতে প্রথমে ৭০% সামরিক এবং ৩০% বেসামরিক থাকবে। দীর্ঘমেয়াদে এই অনুপাত ৫০-৫০ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
বাহিনীর নেতৃত্বে থাকবেন একজন এয়ার ভাইস মার্শাল, যার অধীনে দুজন গ্রুপ ক্যাপ্টেন (সেক্রেটারিয়েট, বাজেট ও নীতি সংক্রান্ত কাজের জন্য), দুজন উইং কমান্ডার (সমন্বয়, পাবলিক রিলেশন, ঝুঁকি মূল্যায়ন, গবেষণা ও তদন্তের জন্য) এবং একজন জয়েন্ট সেক্রেটারি (অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও আইনি বিষয়ের জন্য)।
এছাড়া, তিনটি শাখায় কাজ করবে দুটির নেতৃত্বে এয়ার কমোডর এবং একটির নেতৃত্বে অ্যাডিশনাল বা জয়েন্ট সেক্রেটারি। বাহিনীতে মোট ৭ হাজার ৬৫০ জন সদস্য থাকবে, যার বাজেট ৭৭১ কোটি টাকা।
বাস্তবায়নটি ২০২৬ থেকে ২০৩২ সাল পর্যন্ত ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।
প্রথম ধাপ (২০২৬): ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিমানবন্দরে ২,১৫০ জন সদস্য নিয়োগ (বিমানবাহিনী ও অবসরপ্রাপ্তদের চুক্তিভিত্তিক), খরচ ২১৫ কোটি টাকা।
দ্বিতীয় ধাপ (২০২৮): উপরোক্ত তিনটি বিমানবন্দরে ৭৫% এবং রাজশাহী, সৈয়দপুর, যশোর ও বরিশালে ৫০% নিয়োগ, খরচ ২৫৩ কোটি টাকা।
তৃতীয় ধাপ (২০৩০): সকল বিমানবন্দরে সম্পূর্ণ নিয়োগ, খরচ ৩০৩ কোটি টাকা।
এছাড়া, বাহিনী দুটি হেলিকপ্টার ব্যবহার করে সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ অপারেশন পরিচালনা করবে। বর্তমানে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) এবং ৯ হাজার ৪ জন আনসার সদস্য দ্বারা পরিচালিত হয়, কিন্তু এতে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে।
১২ সদস্যের আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটির ভূমিকা
এজিবির কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীয়তা যাচাইয়ের জন্য ৩১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ১২ সদস্যের একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করা হয়েছে।
কমিটির চেয়ারম্যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) আতাউর রহমান খান।
সদস্যরা নিম্নলিখিত মন্ত্রণালয় ও বিভাগ থেকে নির্বাচিত:
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়
অর্থ মন্ত্রণালয়
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনুবিভাগ।
কমিটির প্রধান কাজ হলো বাহিনী গঠনের সুপারিশ প্রণয়ন করা। তারা ১৯ সেপ্টেম্বর প্রথম মিটিং করেছে, কিন্তু এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।