ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়িয়ে রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
Daily Crisis BD, ৫ অক্টোবর:
ভারতে আবারও উসকে উঠছে সাম্প্রদায়িক ঘৃণার আগুন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম ও প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, বিকৃত ছবি ও বিদ্বেষমূলক পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন এটি কেবল একটি ধর্মীয় অবমাননা নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে পরিচালিত এক নতুন কূটচাল, যার লক্ষ্য আসন্ন রাজ্য নির্বাচনের আগে মুসলিম সম্প্রদায়কে উসকে দেওয়া।
পরিকল্পিতভাবে ছড়ানো হচ্ছে ঘৃণা
ভারতের দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলে কিছু উগ্র হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠী সংগঠিতভাবে “নবী অবমাননামূলক” প্রচারণা চালাচ্ছে। বিভিন্ন রাজ্যে স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা এই কর্মকাণ্ডকে আরও উৎসাহিত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনগুলো জানিয়েছে, বহু মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় উস্কানিমূলক মিছিল, পোস্টার ও অনলাইন ভিডিওর মাধ্যমে জনগণের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ানো হচ্ছে। এদিকে, প্রতিবাদে নামা মুসলিম তরুণদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে—কিন্তু উস্কানিদাতাদের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপের খবর নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আশঙ্কা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘৃণাচর্চা ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কৌশলের অংশ। তারা মনে করছেন,
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ
ভারতের এই ধারাবাহিক ধর্মীয় বিদ্বেষমূলক কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে মুসলিম বিশ্ব। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি ইসলামিক দেশ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ভারতের সরকারের নীরব ভূমিকায় উদ্বেগ জানিয়েছে।
ওআইসি (OIC)-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে,
“প্রিয় নবী (সাঃ)-এর প্রতি অবমাননা কোনো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নয়, বরং এটি এক প্রকার ঘৃণা ছড়ানোর অপরাধ, যা আন্তর্জাতিক শান্তিকে বিপন্ন করতে পারে।”
ভারতের ধর্মনিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে
ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তব চিত্র এখন ভিন্ন। সংখ্যালঘু মুসলিমরা আজ আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বহু মসজিদ ও ইসলামিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। নাগরিক সমাজ প্রশ্ন তুলছে
“এই কি সেই ভারত, যে দেশ নিজেকে সহাবস্থানের প্রতীক বলে গর্ব ক
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন এই ঘৃণা ও সহিংসতার রাজনীতি যদি অব্যাহত থাকে, তবে ভারতের বহুত্ববাদী সমাজ কাঠামো গভীর সংকটে পড়বে। মুসলমানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নাগরিক অধিকার হুমকির মুখে পড়বে।
শেষ প্রশ্নটা আজ সবার মনে
ভারত কি ঘৃণার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে মানবতার পথে ফিরবে, নাকি নিজের সৃষ্ট আগুনেই পুড়ে ছাই হবে তার ধর্মনিরপেক্ষ স্বপ্ন?