নিজস্ব প্রতিবেদক: Daily Crisis BD ,৭ অক্টোবর ২০২৫
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন,
“অর্থনৈতিক দিক দিয়ে আমি স্বস্তিতে আছি। সে জন্য তো আমরা মোটামুটি একটু কনফিডেন্ট।”
তার এই বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়েছে—বৈশ্বিক মন্দা, ডলারের চাপ, মুদ্রাস্ফীতি ও আমদানি ব্যয়ের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি এখনো স্থিতিশীল পথে রয়েছে বলে সরকারের আত্মবিশ্বাস।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন,
“আমরা যেভাবে অর্থনৈতিক নীতিমালা বাস্তবায়ন করছি, তাতে করে আশা করা যায় সামনে আরও ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাবে। রাজস্ব সংগ্রহ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের দিকে আমরা জোর দিচ্ছি। এই মুহূর্তে কোনো ভয় বা অস্থিরতা দেখছি না।”
তিনি আরও বলেন,
“অবশ্যই কিছু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা বাজার ও খাদ্যপণ্যের দামের ওঠানামা। তবে সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি এখন ‘স্বস্তির অঞ্চলে’ অবস্থান করছে। পরিকল্পিতভাবে এগোতে পারলে উন্নয়নধারা আরও গতিশীল হবে।”
রপ্তানি ও রেমিট্যান্সে ইতিবাচক সাড়া
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধি অর্থনীতিকে নতুন করে শক্তি জুগিয়েছে।
বিশেষ করে পোশাক শিল্পে অর্ডার বৃদ্ধি, বিদেশি মুদ্রা রিজার্ভে উন্নতি এবং কৃষি উৎপাদনের ধারাবাহিকতা দেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে।
একজন অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মন্তব্য করেন,
“অর্থনীতিতে যে আস্থা ফিরে আসছে, সেটি বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সরকারের ব্যয় কাঠামো, রপ্তানি পরিকল্পনা ও আর্থিক খাতের সংস্কারে ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে আগামী অর্থবছরে আরও ভালো প্রবৃদ্ধি দেখা যাবে।”
অর্থনৈতিক স্বস্তির পেছনের সূচকগুলো
বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে—
- রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি: প্রবাসী আয় গত কয়েক মাসে ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, যা বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
- রপ্তানি খাতের পুনরুদ্ধার: তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে অর্ডার বৃদ্ধি রপ্তানি আয় বাড়াচ্ছে।
- কৃষি উৎপাদনে স্থিতিশীলতা: খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সহায়ক।
- রাজস্ব আহরণে উন্নতি: এনবিআর রাজস্ব সংগ্রহে লক্ষ্যপূরণের কাছাকাছি পৌঁছেছে, যা সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে।
- বিনিয়োগে আস্থা: দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নতুন প্রকল্পে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল ও অবকাঠামো খাতে।
অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এই ধারা অব্যাহত থাকে এবং সরকার পরিকল্পিতভাবে সংস্কার ও বিনিয়োগ প্রণোদনা চালু রাখে, তাহলে বাংলাদেশ আগামী অর্থবছরে আরও শক্ত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে।
সব মিলিয়ে সালেহউদ্দিন আহমেদের এই মন্তব্য দেশের জনগণ ও ব্যবসায় মহলে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ও আশাবাদের বার্তা দিয়েছে কঠিন সময় পেরিয়ে বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন পুনরুদ্ধারের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।