নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলাকে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত ঘোষণা করার লক্ষ্য নিয়ে মাসব্যাপী বিশেষ ফিস্টুলা ক্যাম্পেইন শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
প্রসূতি ফিস্টুলা একটি ভয়াবহ প্রসবজনিত আঘাত যা বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ নারীকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে প্রসবজনিত ফিস্টুলামুক্ত করার লক্ষ্য অর্জনে সরকার কাজ করছে, যার জন্য টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG)-এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইউএনএফপিএ (UNFPA) বাংলাদেশ-এর সহায়তায় কিছু কৌশল প্রণয়ন করা করেছে।
উল্লেখ্য, সুবর্ণচরে গত ০৯ই নভেম্বর ২০২৫ থেকে ১১ই ডিসেম্বর ২০২৫ মাসব্যাপী “ প্রসূতি ফিস্টুলা রোগী সনাক্তকরণ ক্যাম্পেইন চলমান।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান এর সভাপতিত্বে এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) এর নোয়াখালী জেলার ফিল্ড অফিসার ডাঃ সাদিয়া শামরিন হৃদি, সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ, বাংলাদেশ (CIPRB) এর ডিস্ট্রিক্ট MPDSR কো-অর্ডিনেটর আবু বকর সিদ্দিক সজীব ও ডিস্ট্রিক্ট পাবলিক হেলথ নার্স রেখা রানী মজুমদার এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের পরিসংখ্যানবিদ, সকল নার্স, মিডওয়াইফ এর উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন, ” এই মহৎ কাজের সাথে জড়িত থাকতে পেরে আমরা গর্বিত, আমরা সবসময় বলি বাড়িতে অপ্রশিক্ষিত দায় দ্বারা ডেলিভারি না করে সরকারি বা নিকটস্থ হাসপাতালে গাইনি বিশেষজ্ঞ বা প্রশিক্ষিত নার্স/ মিডওয়াইফ দ্বারা ডেলিভারি করার জন্য যাতে মৃত্যু ঝুঁকি ও এই ধরনের রোগের ঝুঁকি না বাড়ে।”
জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল ( UNFPA) এর ফিল্ড অফিসার ডাঃ হৃদি জানান “ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) এর আর্থিক সহায়তায় ও সিআইপিআরবি এর কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত Sexual Reproductive Maternal Newborn Child and Adolescent Health (SR-MNCAH) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত এই কার্যক্রমে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এক যৌগে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।
উপজেলা থেকে কমিউনিটি থেকে ফিস্টুলা রোগীদের সনাক্ত করে নোয়াখালী জেলা সদর হাসপাতালে প্রাথমিকভাবে রেফার করবেন। সেখানে গাইনি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে রোগীদের চূড়ান্ত মূল্যায়নের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ন্যাশনাল ফিস্টুলা সেন্টারে রেফার করা হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো এই চিকিৎসার সমস্ত ব্যয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বহন করবে UNFPA ও CIPRB।”
CIPRB এর ডিস্ট্রিক্ট এমপিডিএসআর কো-অর্ডিনেটর আবু বকর সিদ্দিক সজীব বলেন, “ আমি পূর্বেও মানবসেবায় কাজ করেছি। কখনোই চিকিৎসার অভাবে কোনো মা বা নবজাতকের মৃত্যু না ঘটে সেক্ষেত্রে সকলকে আরও সচেতন হওয়ার আহবান রইল। প্রসূতি ফিস্টুলা রোগী সন্দেহ হলে সাথে সাথে জানালে, সেই রোগীর টেস্ট হতে শুরু করে অপারেশন পর্যন্ত সকল কিছুর ব্যায়ভার বহন করা হবে।”
তিনি আরো জানান, সুবর্ণচর উপজেলার সকল মাঠপর্যায়ের কর্মরত স্বাস্থ্য কর্মী ও পরিবার পরিকল্পনা সহকারীদের রোগী শনাক্তকরণে সহায়তা আশাবাদ ব্যাক্ত করে বলেন যে ‘আপনার একটা রেফার একজন মায়ের সুন্দর জীবন ফিরিয়ে দিতে পারে।”
জনস্বাস্থ্য খাতে এ ধরনের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ মা ও নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে ও প্রসবজনিত জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে বয়ে চলা ফিস্টুলা আক্রান্ত নারীদের জন্য একটি আশার আলো। আসুন ফিস্টুলা আক্রান্ত নারীর স্বাস্থ্য ও অধিকার নিশ্চিত করি, প্রসবজনিত ফিস্টুলা মুক্ত দেশ গড়ি।
আপনার কমিউনিটিতে যে কোন প্রসুতি ফিস্টুলা রোগীর সনাক্তকরণে সংশ্লিষ্ট উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স এ দ্রুত যোগাযোগ করার অনুরোধ জানান।
ভবিষ্যতে জেলার অন্যান্য উপজেলা গুলোকে এ ধরনের কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণভাবে ফিস্টুলামুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন উপস্থিত অন্যান্য কর্মকর্তারা।