ডেইলি ক্রাইসিস বিডি ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৯:০০
বাংলাদেশ সরকার এবার কৃষকদের স্বার্থ রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি না করার সিদ্ধান্তে অটল থেকেছে। ফলে বছরের শেষ সময়ে ভারতীয় রপ্তানিকারক এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে অন্তত ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ এখন পচে নষ্ট হওয়ার পথে।
সরকারের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ভারতীয় রপ্তানিকারকরা। বাংলাদেশের আমদানিকারকদের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে তারা বিপুল পরিমাণ পেঁয়াজ মজুত করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন মাত্র ২ রুপি কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। এতে ভারতের পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তত ৩০–৪০ জন বড় ব্যবসায়ীরও কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক ডেইলি ক্রাইসিস বিডিকে বলেন,
“এ ক্ষতির মাত্রা বলে বোঝানো যাবে না। এমন সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
একইভাবে সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বলেন,
“হাজার হাজার টন পেঁয়াজ সীমান্তে পৌঁছে গেছে। কিন্তু ইমপোর্ট পারমিট (আইপি) না পাওয়ায় আমরা খালাস করতে পারিনি। ভবিষ্যতের জন্য এটা খুব খারাপ নজির।”
সিন্ডিকেট ভেঙে গেছে: কৃষি মন্ত্রণালয়
অন্যদিকে কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের ওপর বড় বার্তা। এবার বাজার নিয়ন্ত্রণ ছিল কৃষকের হাতে সিন্ডিকেট দাম বাড়ানোর চেষ্টা করলেই কৃষক বাজারে পেঁয়াজ ছাড়া শুরু করায় মূল্য নিয়ন্ত্রণে থাকে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. জামাল উদ্দীন বলেন,
“আমরা এবার উৎপাদনে স্বাবলম্বী। দেশে যখন পর্যাপ্ত পেঁয়াজ আছে, তখন কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে আমদানি চাপ সৃষ্টি করা যাবে না। সিন্ডিকেট এবার ব্যর্থ হয়েছে।”
তিনি জানান,
দেশের মোট চাহিদা: ২৮ লাখ টন
গত মৌসুমে উৎপাদন: ৪৪ লাখ টন
কৃষকের হাতে এখনও ৩ লাখ টনের বেশি পুরাতন পেঁয়াজ রয়েছে
বাজারে এসেছে ৭০–৮০ হাজার টন গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ
১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে আড়াই লাখ টন মুড়িকাটা পেঁয়াজ আসবে
ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ
হঠাৎ আমদানি বন্ধ ভারতীয় সীমান্তে নেমেছে নাভিশ্বাস
ঘোজাডাঙ্গা, পেট্রাপোল, মাহাদিপুর ও হিলি সীমান্তে মজুত হওয়া ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ পচতে শুরু করেছে। ১৬ রুপি দরে নাসিক থেকে কেনা পেঁয়াজ পরিবহন ব্যয়সহ ২২ রুপি দাঁড়ালেও এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ২ রুপিতে।
পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার মাহাদিপুর-সোনামসজিদ এলাকায় প্রতি ৫০ কেজির বস্তা মিলছে মাত্র ১০০ রুপিতে যা প্রায় বিনামূল্যে বিক্রি করার সমান।
সরকারের অবস্থান একটাই: কৃষকের ক্ষতি হবে না
কৃষি ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আগেই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন
“যত চাপই আসুক, কৃষকের স্বার্থে পেঁয়াজ আমদানি হবে না।”
২ হাজার ৮০০টি আবেদন থাকা সত্ত্বেও কৃষি মন্ত্রণালয় কোনো আইপি দেয়নি। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের চাপও কার্যকর হয়নি।
সারসংক্ষেপ
বাংলাদেশে এবার পেঁয়াজ উৎপাদন পর্যাপ্ত তাই আমদানির প্রয়োজন নেই।
সিন্ডিকেট করা ব্যবসায়ীদের পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
সীমান্তে পচছে ৩০ হাজার টন পেঁয়াজ।
ভারতীয় ও বাংলাদেশি কিছু বড় ব্যবসায়ী কোটি টাকা লোকসানে।
সরকারের অবস্থান শক্ত: কৃষকের স্বার্থই আগে।