ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভিন্নধর্মী রণকৌশলে অগ্রসর হচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। দলটি এবার সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচনে মনোনয়নে বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে যেখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে তরুণ নেতৃত্ব, পেশাজীবী শ্রেণি এবং নতুন মুখকে সামনে আনা।
দলের শীর্ষ সূত্রগুলো জানায়, ঘোষিত ৩০০ আসনের প্রাথমিক তালিকা পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়ায় রয়েছে। মাঠের বাস্তবতা, জনপ্রিয়তা যাচাই এবং জোটগত সমঝোতার ভিত্তিতে অন্তত ৫০টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।
ইতোমধ্যে তিন আসনে প্রার্থী বদল
হবিগঞ্জ–৪, লালমনিরহাট–৩ ও সিলেট–১ আসনে সম্প্রতি নতুন মুখ যুক্ত করেছে দলটি।
লালমনিরহাট–৩ আসনে সাংগঠনিক বিবেচনায় প্রার্থী বদলে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য ও জেলা আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের।
হবিগঞ্জ–৪ আসনে পূর্ব মনোনীত মুখলিছুর রহমান নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে সাংবাদিক অলিউল্লাহ নোমানকে সমর্থন জানান।
এছাড়া সিলেট–১ আসনে অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের স্থলে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
অমুসলিম প্রার্থী বিবেচনায় ঐতিহাসিক পদক্ষেপ
দলের নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, এবার প্রথমবারের মতো অমুসলিম প্রার্থীও বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
খুলনা–১ আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা কৃষ্ণ নন্দীকে মাঠে কাজের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, যা জামায়াতের রাজনৈতিক পরিসর পরিবর্তনের লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পেশাজীবী ও নতুন মুখের অগ্রাধিকার
জামায়াতের নতুন কৌশলে ক্লিন-ইমেজধারী এবং সমাজে গ্রহণযোগ্য এমন ব্যক্তিদের উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নতুন প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন
চিকিৎসক
প্রকৌশলী
আইনজীবী
শিক্ষাবিদ
সাংবাদিক
বিভিন্ন পেশার প্রতিষ্ঠিত নাগরিক
দলের তথ্য অনুযায়ী, ঘোষিত প্রার্থীদের প্রায় ৮০ শতাংশই প্রথমবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন।
জোটগত সমঝোতা বড় পরিবর্তনের কারণ
সমমনা আটটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জামায়াতের নির্বাচনী সমঝোতা প্রায় চূড়ান্ত।
সমঝোতা হলে কমপক্ষে ৫০টি আসনে প্রার্থী তালিকা বদলাতে হবে।
যে যার দলে হলেও যেখানে জয়ের সম্ভাবনা বেশি, সেখানেই উপযুক্ত প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়াই হবে মূল নীতি।
মাঠের বাস্তবতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত
৩০০ আসনে প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা ছিল মূলত ভোটারদের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় সাংগঠনিক শক্তি পরিমাপের অংশ।
এখন সেই তথ্যানুযায়ী দুর্বল স্থানে নতুন ও শক্তিশালী প্রার্থী যুক্ত করা হচ্ছে।
শুধু জাতীয় নির্বাচন নয়, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও প্রস্তুতি
জামায়াত জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে।
সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীদের আগেই প্রচারণার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা ইতোমধ্যে পোস্টার-বিলবোর্ডেও সক্রিয়।
দলের মতে, স্থানীয় নির্বাচন তৃণমূল সংগঠনকে পুনরুজ্জীবিত করবে এবং মাঠে কর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে।
দায়িত্বশীল নেতাদের বক্তব্য
জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন
“কিছু আসনে প্রার্থিতায় পরিবর্তন ও বৈচিত্র্য আসবে। সাংগঠনিক ও কৌশলগত কারণে এটি স্বাভাবিক।”
অন্যদিকে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান
“৩০০ আসনে প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা হলেও জনপ্রিয় ও পেশাজীবী ব্যক্তিদের মনোনয়নে আনার পরিকল্পনা আগেই ছিল। অসুস্থতা, সংগঠনগত প্রয়োজন ও জোটের সমঝোতার ভিত্তিতে পরিবর্তন অব্যাহত থাকবে।”