গুৱাহাটী, ভারত | বুধবার
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ঘোষণা করেছেন, রাজ্যে অবৈধভাবে বসবাসরত বাংলাদেশি বা অন্যান্য বিদেশি অভিবাসীদের বিতাড়ন করার ক্ষেত্রে আর নরম নীতি থাকবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্য সরকারের মূল নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখন কাউকে বিদেশি ঘোষণা করে আদেশ জারি হলেই তাকে ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে উচ্ছেদ করা হবে। আর আমরা কোনো আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষা করব না।” তিনি এও জানান যে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সাম্প্রতিক মন্তব্য রাজ্য সরকারের কৌশলের সঙ্গে সম্পূর্ণ সঙ্গতিপূর্ণ।
নীতির পরিবর্তন এবং প্রেক্ষাপট
আগে বহিষ্কারের ক্ষেত্রে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে যাচাই এবং দীর্ঘ কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হতো। কিন্তু নতুন নির্দেশিকায় সেই প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি উচ্ছেদ কার্যক্রমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “উন্নয়নের পাশাপাশি আসামের ‘পরিচয়’ রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্য যদি নিজের পরিচয় রক্ষা করতে না পারে, তবে উন্নয়ন কার জন্য?” তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, পরিচয় রক্ষা রাজ্যের শাসননীতির অগ্রাধিকার।
এর আগে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা একটি অনুষ্ঠানে দাবি করেছিলেন, “আমাদের রাজ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে আসাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।”
বিষয়টি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক ও সামাজিক উভয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়ে গেছে।