ঢাকা | জানুয়ারি ২০২৬
দলিল নিবন্ধন ব্যবস্থাকে আধুনিক, সময়োপযোগী ও পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল করতে নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন এনে নিবন্ধন (সংশোধনী) অধ্যাদেশ, ২০২৬ জারি করেছে সরকার। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশে ই-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা চালুর আইনগত ভিত্তি তৈরি হলো।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে গত বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অধ্যাদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়, সংসদ ভেঙে যাওয়ায় এবং জরুরি পরিস্থিতি বিদ্যমান থাকায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন ও জারি করেন।
⏳ দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা বৃদ্ধি
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন আইন, ১৯০৮-এর ধারা ১৭ক-ছ-এর উপধারা (২)-এ উল্লিখিত দলিল নিবন্ধনের সময়সীমা পূর্বের ৩০ দিনের পরিবর্তে ৬০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ধারা ২৬-এর অনুচ্ছেদ (খ)-এ উল্লিখিত সময়সীমা চার মাস থেকে বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে।
🏠 হেবা ও দান নিবন্ধনের আওতায়
ধারা ৫২ক সংশোধনের মাধ্যমে দলিল নিবন্ধনের আওতা আরও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিক্রয়ের পাশাপাশি মুসলিম ব্যক্তিগত আইন (শরিয়ত) অনুযায়ী হেবা ঘোষণা এবং হিন্দু, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ ব্যক্তিগত আইনের অধীনে দানের ঘোষণা নিবন্ধনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এ জন্য আইনে ‘বিক্রেতা’ শব্দের সঙ্গে ‘অথবা দাতা’ শব্দ সংযোজন করা হয়েছে।
⚖️ অনিয়মে নিবন্ধন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণ
ধারা ৬৮ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধন কর্মকর্তা যথাযথ ফি, কর, সার্ভিস চার্জ বা শুল্ক আদায় না করে দলিল নিবন্ধন করলে তা অসদাচরণ হিসেবে গণ্য হবে। এ ক্ষেত্রে অনাদায়ী অর্থ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছ থেকেই আদায় করা হবে।
📝 আপিল ও আবেদনের নিষ্পত্তির নির্ধারিত সময়
অধ্যাদেশে ধারা ৭২ সংশোধন করে উপধারা (১ক) সংযোজন করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আপিল দাখিলের তারিখ থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে রেজিস্ট্রারকে আপিল নিষ্পত্তি করতে হবে।
এ ছাড়া ধারা ৭৩ সংশোধন করে নতুন উপধারা (৩) যুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে আবেদন দাখিলের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।
💻 চালু হচ্ছে ই-রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থা
অধ্যাদেশে নতুন অংশ দ্বাদশ(ক) সংযোজন করে ধারা ৭৭(ক) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত সফটওয়্যার ব্যবহার করে দলিল উপস্থাপন, গ্রহণ ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে দলিল নিবন্ধন করা যাবে।
এ সংক্রান্ত বিস্তারিত বিধি সরকার গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রণয়ন করবে।
💰 ফি ও সার্ভিস চার্জ আদায়ের নতুন নিয়ম
অধ্যাদেশে ধারা ৮০ প্রতিস্থাপন করে বলা হয়েছে, দলিল উপস্থাপনের সময়ই সব ফি, কর, সার্ভিস চার্জ ও শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। এসব অর্থ আদায়ের পদ্ধতি এবং সার্ভিস চার্জ ব্যবহারের বিষয়ে সরকার গেজেটের মাধ্যমে বিধিমালা প্রণয়ন করবে।