নীলফামারী–১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটে নামছেন অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী; পিতা–পুত্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জোটে অস্বস্তি
নীলফামারী, বাংলাদেশ — ১৯ জানুয়ারি ২০২৬
নীলফামারী–১ (ডোমার–ডিমলা) আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভগ্নিপতি অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী। একই সঙ্গে নীলফামারী–২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন খালেদা জিয়ার বড় বোনের ছেলে শাহরিন ইসলাম চৌধুরী।
জেলার এই দুই আসনে জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়—পিতা ও পুত্রের এমন নির্বাচনী অবস্থান ভোটারদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় ভোটারদের একাংশের মতে, এ পরিস্থিতি বিএনপি জোটকে বিপাকে ফেলতে পারে এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে পিতা–পুত্র নির্বাচনী লড়াইয়ে নেমেছেন।
নীলফামারী–১ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী মনোনয়ন পান। এই আসনটি জমিয়তকে ছেড়ে দেওয়ায় বিএনপির নির্ধারিত প্রার্থী তারেক রহমানের খালাতো ভাই রফিকুল ইসলামের ছেলে শাহরিন ইসলাম চৌধুরীকে নীলফামারী–২ আসনে দলীয় প্রার্থী করা হয়।
এরপর অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী নীলফামারী–১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন। নির্বাচনে অংশ নিতে তিনি সংশ্লিষ্ট এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর জমা দিলেও একাধিক ভোটারের তথ্যে অসঙ্গতির অভিযোগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়ন বাতিল করেন।
এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। শুনানি শেষে গত শনিবার (১৭ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা পুনর্বহাল করে। প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার পর তিনি নির্বাচনে থাকার ঘোষণা দেন।
উল্লেখ্য, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী ছিলেন। এবার তিনি বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ায় তিনি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচনে তিনি লড়বেন এবং প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কোনো সম্ভাবনা নেই। এটি তার জন্য ‘প্রেস্টিজ ইস্যু’ বলে তিনি দাবি করেন।